পার্লামেন্টে তারকাদের নিয়োগের সাফল্য নিয়ে সন্দিহান সমালোচকরা

ক্রিকেটের কিংবদন্তি তারকা শচিন টেন্ডুলকার এবং বলিউড অভিনেত্রী রেখা পার্লামেন্টের সদস্য হয়েছেন, কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক ওই অঙ্গনে এই সেলিব্রেটিরা কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান।

নয়া দিল্লী থেকে খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লিখেছেন উদয়ন নাম্বুদিরি

জুন 11, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 11 টি মন্তব্য

ভারতের ক্রীড়াঙ্গনের তারকা শচিন টেন্ডুলকার গত সোমবার (৪ জুন) সংসদ সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন। সংসদের উচ্চকক্ষ (রাজ্য সভা)এ আগামী ছয় বছরের জন্য যে ১২ জন্য সম্মানিত নাগরিককে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন, শচিন তাদের মধ্যে একজন।

  • গত ৪ জুন নয়া দিল্লীতে ভারতীয় পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করছেন শচিন টেন্ডুলকার। পাশে বসা সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ভি. নারায়ণস্বামী তা তাকিয়ে দেখছেন। জীবন্ত কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার হচ্ছেন ভারতের প্রথম সক্রিয় ক্রিড়াবিদ যিনি পার্লামেন্টের সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন। [রয়টার্স/ভারতীয় তথ্য ও সম্প্রচার ফটো বিভাগ]

    গত ৪ জুন নয়া দিল্লীতে ভারতীয় পার্লামেন্টে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার পর শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করছেন শচিন টেন্ডুলকার। পাশে বসা সংসদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ভি. নারায়ণস্বামী তা তাকিয়ে দেখছেন। জীবন্ত কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার হচ্ছেন ভারতের প্রথম সক্রিয় ক্রিড়াবিদ যিনি পার্লামেন্টের সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন। [রয়টার্স/ভারতীয় তথ্য ও সম্প্রচার ফটো বিভাগ]

কঠিন নির্বাচনী রাজনীতির বাইরে এভাবে বিখ্যাত ব্যক্তিদেরকে নিয়োগ দেয়ার পেছনে মূল উদ্দেশ্য থাকে যে, তারা তাদের বিশেষ জ্ঞান দিয়ে সংসদীয় প্রক্রিয়াকে “সমৃদ্ধ” করতে পারবেন। .

কিন্তু তাদের শপথ অনুষ্ঠান নিয়ে সংবাদ মাধ্যমগুলোর যেমন মাতামাতি শেষ হওয়ার পর, অনেক ভারতীয় বিশ্লেষকরা সন্দিহান হয়ে পড়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত তারা, টেন্ডুলকার কিংবা একইভাবে নির্বাচিত হয়ে গতমাসে শপথ নেয়া বলিউড অভিনেত্রী রেখা, সংসদে যেয়ে কতটুকুই বা ভূমিকা রাখতে পারবে।

সমাজকর্মী এবং অভিনেত্রী কিরণ খের এ ব্যাপারে খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেন, “রেখা যেভাবে শপথ নিচ্ছিলেন, সে অনুষ্ঠানটি যেভাবে প্রচার করা হয়েছে, তা দেখে আমি কিছুটা বিভ্রান্ত। সেটি এমনভাবে প্রচার করা হয়েছে, যেন সেটা ছিল কোন পুরস্কার বিতরনী রাতের অনুষ্ঠান”।.

ভারতের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যম দুরদর্শন রেখার ওই সংক্ষিপ্ত শপথ অনুষ্ঠানটি সরসরি প্রচার করে। আর এই পুরো অব্যাহতভাবে তারা পর্দায় দেখায় অভিনেত্রী থেকে সংসদ সদস্য বনে যাওয়া অপর তারকা জয়া বচ্চনকে। ১৯৮০’র দশকে এই রেখা’র সঙ্গে জয়া’র স্বামী অমিতাভ বচ্চনের একটা সম্পর্ক ছিল বলে গুঞ্জন ছিল।

রাজনীতি বিশ্লেষক রজত খের এ ব্যাপারে খবরকে বলেন, “বিষয়টি যে দুরভিসন্ধিমূলক ছিল, সেটি একেবারেই পরিস্কার”। পরে কয়েকজন সংসদ সদস্য এই অনুষ্ঠান প্রচার নিয়ে রাজ্য সভার চেয়ারম্যানের কাছে তাদের প্রতিবাদ জানান।

রেখাকে নিয়োগের যথার্থতা এবং ওই নিম্ন রুচির টেলিভিশন প্রদর্শনী নিয়ে ইতোমধ্যেই ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে, টিভিসহ বিভিন্ন মিডিয়াতে এ নিয়ে প্রচুর আলোচনা হয়েছে। এরপর বিশ্লেষকরা এই সপ্তাহে দৃষ্টি দিয়েছে টেন্ডুলকারের উপর। উল্লেখ্য, টেন্ডুলকার এ বছরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার শততম সেঞ্চুরি করে আসামন্য সাফল্য দেখিয়েছেন।

ভারতের সাবেক রাজনীতিবিদ রোশান বেগ এ প্রসঙ্গে বলেন, “এই মানুষটিকে রাষ্ট্রীয় সম্ভাব্য সবক’টি সম্মানই ইতিমধ্যে যে দেয়া হয়েছে, এটাই কি যথেষ্ট ছিল না? পার্লামেন্ট যাওয়ার পর সে বড়জোর একজন দর্শক হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, আর এতে জনগনের সময় এবং অর্থের অপচয়ই হবে কেবল”।

পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতে সেলিব্রেটিদের সংসদসদস্য বানানোর এই প্রবণতা অনেকদিনের। যদিও এইসব চলচ্চিত্র তারকা, গায়ক, ক্রিকেটার কিংবা সামঞ্জস্যহীন কুস্তিগীরদের অনেকে রীতিমত নির্বাচনে অংশ নেন এবং জিতেও আসেন। কিন্তু পার্লামেন্টের মধ্যে, কিংবা রাজ্যে তাদের নির্বাচনী এলাকায় তারা খুব সামান্যই ভূমিকা রাখতে পারেন।

প্রখ্যাত লেখক তরুণ গাঙ্গুলি স্মরণ করিয়ে দেন, এই প্রবণতাটি শুরু হয়েছে সেই ১৯৫০ সালেই, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জওয়াহারলাল নেহরু। তিনি কংগ্রেস পার্টির দুর্বল আসনগুলোতে যেখানে দলের খুব সামান্য সুযোগ রয়েছে, সেসব আসনে জয় পেতে চলচ্চিত্র তারকাদের মনোনয়ন দিয়েছেন, এই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এই আশায়-যেন তারা তাদের তারকা ইমেজকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনে জয়ী হতে পারেন।

নেহরু’র পৌত্র, সাবেক প্রধান মন্ত্রী রাজীব গান্ধিও ১৯৮৪’র নির্বাচনে ১৪ জন সেলিব্রেটিকে পার্লামেন্টে নিয়ে এসেছিলেন। এদের মধ্যে ক্রিকেটার যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন চলচ্চিত্র জগতের সাবেক ও বর্তমান তারকারাও। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে যেয়ে এদের কেউই তেমন কোন সাফল্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।

বলিউডের সাবেক তারকা থেকে রাজনীতিবিদ হয়ে যাওয়া বিনোদ খান্না এ বিষয়ে তার অভিজ্ঞতার কথা জানান খবরকে। তিনি বলেন, “পার্লামেন্টে একটি বক্তব্য দিতে গেলে লম্বা অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকতে হয়। বেশিরভাগ সময় বরাদ্দ হয়ে থাকে বড় বড় রাজনৈতিক দলের জন্য, এবং দলগুলো সে সময় দিয়ে থাকে তাদের বড় বড় নেতাদেরকে। তাই রেখা বা টেন্ডুলকারের মত মনোনীত সংসদ সদস্যরা তাদের পুরো মেয়াদে খুব বেশি কিছু করে দেখাতে পারবেন-এমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে”।

টেন্ডুলকার, যিনি এখনও পুরোমাত্রায় খেলাধূলার সঙ্গে জড়িত আছেন, সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “পার্লামেন্টে আমি ক্রিকেট ছাড়াও দেশের অন্যান্য ক্রীড়ার জন্য কিছু করার চেষ্টা করবো”।

এই “লম্বা প্রতিশ্রুতি”’র জন্য আরও অনেকের মতো চেন্নাই ভিত্তিক লেখক এমপি রাজুও তার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আমি জানতে চাই কিভাবে একজন মনোনীত এমপি সংসদে যে কোন বিষয়ে অবদান রাখতে পারবেন? এমনকি ক্রীড়াঙ্গনেই বা কিভাবে অবদান রাখবেন? টেন্ডুলকার তো সরকারের কেউ নন, তাহলে তিনি কিভাবে ভারতীয় হকি কিংবা ফুটবলের ভালো’র জন্য কিছু করবেন?”

এরকম আর একজন সেলিব্রেটি, সাবেক অভিনেত্রী হেমা মালিনিকে এমপি হিসাবে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। তিনি অবশ্য সংসদে আলোচনায় এসেছিলেন, তবে সেটি ছিল একটি ভুল কারণে মনযোগ আকর্ষণ। ২০০৭ সালে, রাজ্য সভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে, তিনি অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, যে সমস্ত পানি বিশুদ্ধকরণ যন্ত্রে রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় সেগুলোকে কেন করের আওতামুক্ত রাখা হবে না?

নৈতিকতা কমিটি অবশ্য তখনই জানিয়ে দেয় যে, এই প্রশ্নের সঙ্গে তার বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত আছে। এর কয়েক মাস আগে থেকে রিভার্স অসমোসিস পদ্ধতিতে পানি বিশুদ্ধ করার একটি জনপ্রিয় ব্রান্ডের বিজ্ঞাপনে তিনি মডেল হয়েছিলেন। সে বিজ্ঞাপন তখন টেলিভিশনে প্রচারও হচ্ছিল।

১৯৭০ দশকের “ড্রিম গার্ল” পরে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেন, “আমি কেবল জনগনের স্বার্থের কথা চিন্তা করেছি। আমি আসলে আইন কানুন সম্পর্কে কিছু্ই জানি না”। কিন্ত তার পরও ভারতীয় জনতা পার্টি, তার রাষ্ট্রপতির মনোনয়নের ছয় বছর পার হওয়ার পর, আবার তাকে রাজ্য সভায় পাঠিয়েছে।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 39)

5 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • MuthuAugust 16, 2012 @ 12:08:45AM

    শচিন - ক্রিকেটের ঈশ্বর এখন ভারতীয় ক্রীড়ার ঈশ্বরে পরিণত হয়েছে

  • sangayAugust 12, 2012 @ 12:08:43AM

    যদি একজন গায়ক, অভিনেতা, গুন্ডা বা ডন - সংসদে থাকতে পারে, তাহলে একজন ক্রিকেট খেলোয়াড় কেন পারবে না, এটা কোনো নতুন বিষয় নয়, এটা হলো নতুন বোতলে পুরাতন মদের মত ৷

  • Nehanshu GohilAugust 9, 2012 @ 04:08:33AM

    আপনার নিবন্ধ আমার ভালো লাগে৷ আমি আপনার বড় বন্ধু ৷

  • Nehanshu GohilAugust 9, 2012 @ 04:08:33AM

    আপনার নিবন্ধ আমার ভালো লাগে৷ আমি আপনার বড় বন্ধু ৷

  • JEEVASACHINJuly 30, 2012 @ 02:07:11AM

    যিনি যন্ত্রকে পরাজিত করতে পারেন (শচিন টেন্ডুলকার)৷ তিনি কেবলই একটি যন্ত্র ৷

  • abhinav kapoorJuly 29, 2012 @ 03:07:00AM

    শচীন আমার প্রিয় ক্রিকেটার এবং আমি আমার জীবনে একদিন তার সাথে দেখা করতে চাই, এটা আমার জীবনের একটা স্বপ্ন ৷ আমি শচীনের খেলা দেখতে ভালোবাসি ৷

  • Avtar AmbalaJuly 25, 2012 @ 03:07:48PM

    হ্যাঁ, নিঃসন্দেহে তিনি প্রতিভাবান... এটা ক্রীড়া বা রাজনীতি যাই হোক না কেন, কী করতে হবে এবং কীভাবে করতে হবে তার সবকিছুই তিনি জানেন... শচীনের নতুন ইনিংসের জন্য শুভকামনা রইলো ৷

  • ajith abeywardenaJuly 19, 2012 @ 01:07:12AM

    ভালো ক্রিকেটার, নোংরা রাজনীতি করবেন না? আপনার নাম যেমন আছে তেমন রাখুন, শুভকামনা রইলো ৷

  • manindrachandrasarkerJuly 14, 2012 @ 12:07:20AM

    না, আমি চাই না তিনি সংসদে যান কারণ তিনি এখন বিশ্বের একজন কিংবদন্তি ৷ যদি তিনি সংসদে যান তাহলে তিনি তার সুনাম ধরে রাখতে পারবেন না ৷

  • hasanJuly 12, 2012 @ 11:07:33PM

    এটা একটা ভুল সিদ্ধান্ত ৷

  • fakrulJuly 11, 2012 @ 04:07:39AM

    শচীন টেন্ডুলকার আপনার রাজনৈতিক কাজটা করতে পারে ৷

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।