নিখোঁজ তারকা লায়লা খানের অনুসন্ধানে সন্ত্রাসীদের সাথে জরিত থাকার সূত্র মিলছে

লাপাত্তা হয়ে যাওয়া বলিউড অভিনেত্রীর খুজে পাওয়া গাড়ি থেকে পাওয়া কাগজ পত্র বলে দেয় সে লস্কর-ই- তৈয়বার সন্ত্রাসীদের জালে জড়িয়ে পড়েছে।

নতুন দিল্লী থেকে খবর সাউথ এশিয়ার জন্য লিখেছেন উদয়ন নাম্বুদিরি

জুন 14, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 5 টি মন্তব্য

২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে লায়লা খানকে দেখা যাচ্ছেনা। পাকিস্তানে জন্ম নেয়া বলিউডের এই অভিনেত্রী হারিয়ে যাওয়ার সময় একটি নতুন ছবিতে কাজ করছিলেন। সে সময় তার সাথে আরো ছিলেন তার মা, বোন পরিবারের একজন বন্ধু এবং একজন গৃহ কর্মী।

গুম হওয়ার ঘটনা তদন্তকারীদের সংশয়ে ফেলে দিয়েছে, তারা দেখতে পায়, তারকার প্রকাশ হওয়া বিলাসী জীবনযাত্রা ও তার পরিবারের বলিউড জগতের সাথে সম্পর্কের অসামঞ্জ্যস্যতা লক্ষ্য করেছে। মামলাটিকে আরো রহস্যপূর্ণ করেছে ২রা জুন কাশ্মীরের কিশ্তওয়ার জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া লায়লার মিতসুবিশি আউটল্যান্ডার।

গাড়ি থেকে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ কাগজ পত্রে দেখা যায় খানের হয়তবা লস্কর-ই- তইয়বার (এল ই টি) সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পর্ক ছিল যারা ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের দিল্লী হাইকোর্টের বিস্ফোরনের সাথে যুক্ত ছিল, যে হামলায় ১১ জনের প্রাণহানি ঘটে, খবর সাউথ এশিয়াকে এরকমই বলছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের একজন পুলশ অফিসার।

“দিল্লীর বিস্ফোরন মামলায় কয়েক মাস আগে কিশ্তওয়ারের নাম আসে এবং একজন সন্দেহভাজনের সাথে লায়লা খানের নাম চলে আসে যে কিনা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। আমরা বিশ্বাস করি এই গাড়ির আবিস্কার একটি দারুন মোর নেয়ার মত ঘটনা”, দোদা রেঞ্জের পুলিশ প্রধান গরীব দাস বলেন।

সোহাম ভিদী, সন্ত্রাস বিরোধী স্কোয়াডের (এ টি এস) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা খবর সাউথ এশিয়াকে বলেন যে, লায়লা, তার মা এবং বোন মুম্বাইয়ের একটি এ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করত যেখানে ইগাতপুরির পাহাড়ে অবস্থিত একটি অবকাশ কেন্দ্রের ছবি পাওয়া যায়। তার রয়েছে খুবই দামী গাড়ী এবং অলংকার, যদিও তার ক্যারিয়ার এখনো সেভাবে শুরুই হয়নি। যদিও ২০০৮ সালের একটি ছবি “ওয়াফা”-তে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করে, ছবিটি বক্স অফিসে খুব বাজে ব্যবসা করে।

“এটিই বলে দেয় তার জীবনযাত্রা তার জ্ঞাত আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়”, ভিদী খবরকে বলেন। তিনি বলেন, ফোনে যোগাযোগের রেকর্ড থেকে দেখা যায় যে দুইজন সন্দেহভাজন এল –ই টি কর্মী পারভেজ তাক এবং আসিফ শেখের সাথে লায়লার অহরহ টেলিফোনে কথাবার্তা হত।

“এখন থলের বিড়াল বের হতে শুরু করেছে”, তিনি যোগ করে বলেন।

সোমবার, এটিএস কর্মকর্তারা ছবি প্রযোজক রাকেশ সাওয়ান্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, তিনিই প্রথম মুম্বাই পুলিশকে প্রায় ছয় ঘন্টার মধ্যে লায়লার অন্তর্ধানের ব্যপারটি জানায়। অন্য বিষয় গুলির সাথে সাথে, জিজ্ঞাসাবাদকারীরা তাকে অভিযুক্ত তাকের সাথে লায়লা খানের ইগাতপুরির বাসায় সাক্ষাতের বিষয়ে প্রশ্নবানে জর্জরিত করে।

তার পিতা, নাদির খান, তার মায়ের সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে, তিনি একজনের হারিয়ে যাওয়ার বিষয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি তার কন্যার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন, তবে বলেন, তিনি সবচেয়ে খারাপ কিছুর ব্যাপারে ভীত।

“আমি ভীত যে সে খুব বিপদজনক ব্যক্তির সাথে মেলামেশা করত যারা তাকে হত্যা করতে পারে যখন সে তাদের কার্যোদ্ধার করে দিয়েছে”, তিনি বলেন।

দাসের মতে, লায়লার ইতিপূর্বে বাংলাদেশী সন্ত্রাসী মুনীর খানের সাথে বিয়ে হয়, যার নিষিদ্ধঘোষিত হারকাত-উল-জিহাদ আল-ইসলাম(হুজি)-র সাথে যোগাযোগ ছিল। হতে পারে মুনীরের মাধ্যমে সে এল-ইটি-এর সান্নিধ্যে এসেছে।

তার আসলে ভূমিকা কি ছিল, যদি থাকেও, তা আসলে অস্পষ্ট রয়ে গেছে। ভারতের গণমাধ্যম বলছে হতে পারে সে সন্ত্রাসীদের হামলার স্থানের খবরাখবর জানানো অথবা এমনকি তাদের জন্য তাদের ব্যবহারের গাড়ি ভাড়া করে দিতে সাহায্য করত।

ভারতের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ রাজেশ খারা খবরকে বলেন যে বলিউডের আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য ছিল। “১৯৮০ সাল থেকে, বিভিন্ন গ্যাং লিডারেরা, যাদের মধ্যে উল্লেখ করা যায় দাউদ ইব্রাহীম, তারা ছবিতে অর্থ লগ্নি করে আসছে”, তিনি বলেন।

“সন্ত্রাসী দলগুলো যে এ শিল্পে অনুপ্রবেশ ঘটাবে, এটা ছিল শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র”, খারা যোগ করে বলেন।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 12)

1 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • altafJuly 17, 2012 @ 12:07:43AM

    লায়লা খান একজন অভিনেত্রী ছিলেন যিনি কোনো অবৈধ সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন না অথবা টাকা-পয়সা বানানো মহিলা ছিলেন না ৷ ঘটনাগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে যে তার মা অনেক কয়জন স্বামী পেতে চেয়েছিল যার কারণে তার মৃত্যু ঘটে ৷

  • tanvirJuly 16, 2012 @ 01:07:38AM

    খুব ভালো খবর

  • poojaJuly 15, 2012 @ 11:07:17PM

    যদি সম্পদ হারায় তাহলে কিছুই হারায় না, যদি স্বাস্থ্য হারায় তাহলে কিছুটা হারায়, যদি চরিত্র হারায় তাহলে সবকিছুই হারিয়ে যায় ৷

  • Muhammad AshrafuzzamanJuly 3, 2012 @ 12:07:37AM

    আমার মনে হয় গতানুগতিক চাকরির চেয়ে একটা ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সদস্যপদ অনেক বেশি লাভজনক চাকরি ৷ তারা যুদ্ধের ব্যবসা করছে ৷ তারা যে ধর্মের জন্য কাজ করছে বলে সবার কাছে বলে বেড়ায় সেই ধর্মের জন্য কাজ করার বিন্দুমাত্র কোনো ইচ্ছা তাদের আছে বলে আমার একদমই মনে হয় না ৷ তারা এটাকে কেবলমাত্র একটা ব্র্যাণ্ড নাম হিসেবে ব্যবহার করে ৷

  • manojJune 15, 2012 @ 03:06:52AM

    এটা আসলেই একটা বড় ঘটনা

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।