নেপাল যুবসমাজের মধ্যে শুরু করেছে মাদক সচেতনতামূলক প্রচারণা

তিনলাখেরও বেশি মাদকাসক্ত ব্যক্তি রয়েছে হিমালয়ের এই দেশটিতে, পুলিশ চেষ্টা করছে ক্রমবর্ধমান মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে।

কাঠমাণ্ডু থেকে খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লিখেছেন কিরণ চাপাগাইন

জুন 19, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 6 টি মন্তব্য

পুত্র সন্তানের মা ৪২ বছর বয়স্কা সুনীতা। তার বড় ছেলে সরোজ যখন ডিসটিংসন নিয়ে স্কুলের সমাপনী পরীক্ষায় পাস করলো, তখন সে খুবই খুশি হলো। কারন এর পরেই কলেজ শুরু।

  • মেথাডোন নিরোধী ডোজ নেয়ার পর একজন মাদকাসক্ত যুবক সিগারেট খাচ্ছে। দৃশ্যটি সারথী নেপাল পরিচালিত মেথাডোন মেইটেনেন্স ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রাম সেন্টারে। সারথী নেপাল হচ্ছে কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত এমন একট সংগঠন যারা মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং সহায়তা দিয়ে থাকে। দেশটিতে মাদকাসক্তের সংখ্যা এখন ৩ লাখ থেকে ৪ লাখে পৌছেছে।  [নাভেস চিত্রকর/রয়টার্স]

    মেথাডোন নিরোধী ডোজ নেয়ার পর একজন মাদকাসক্ত যুবক সিগারেট খাচ্ছে। দৃশ্যটি সারথী নেপাল পরিচালিত মেথাডোন মেইটেনেন্স ট্রিটমেন্ট প্রোগ্রাম সেন্টারে। সারথী নেপাল হচ্ছে কাঠমাণ্ডুতে অবস্থিত এমন একট সংগঠন যারা মাদকাসক্তদের চিকিৎসা এবং সহায়তা দিয়ে থাকে। দেশটিতে মাদকাসক্তের সংখ্যা এখন ৩ লাখ থেকে ৪ লাখে পৌছেছে। [নাভেস চিত্রকর/রয়টার্স]

“কিন্তু আমি খুবই উদ্বিগ্ন। কারণ যখন সে কলেজে যাবে, সেখানে হয়তো সে কুসংসর্গে পড়বে” খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বললেন মহারাজন।

নেপালের শহরাঞ্চলের আরও অনেক পিতামাতার মত তিনিও একজন, যারা তাদের কলেজগামী সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত এই ভেবে যে তার সন্তান মাদক সরবরাহকারী চক্রের শিকারে পরিণত হয়।

নীতি নির্ধারকরাও এই মা’য়ের উদ্বেগটির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যে মাদকের শিকারের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। গত ৬ জুন পুলিশ দেশজুড়ে পাঁচ মাস ব্যাপী এক সচেতনতা অভিযান শুরু করেছে।

সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব লক্ষ্মী ধাকাল, যিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত, তিনি বলেন, “দেশে মাদকাসক্তি জনিত সমস্যা যে ভয়াবহ আকার ধারন করছে, এ বিষয়ে আমরা সচেতন। আর আমরা এ ব্যাপারেও সচেতন যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সমস্যাটি তরুণ জনগোষ্ঠীকে আরও বেশিভাবে আক্রান্ত করেছে”।

পুলিশের মুখপাত্র, ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল বিনোদ সিং এর তথ্যানুযায়ী, পুলিশের ধারণা, দেশে তিন থেকে চার লাখ মাদক ব্যবহারকারী রয়েছে। এই ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ শতাংশের মতো তরুণ বয়সের।

এর বাইরে ইদানিং কালের বাড়তি উদ্বেগটি হলো আন্তর্জাতিক মাদক দ্রব্য চোরাচালানের রুট হিসাবে নেপাল ব্যবহৃত হচ্ছে।

সিং জানান, ক্যাম্পেইন বা প্রচারণাটি শুরু করা হয়েছে সাধারণ নাগরিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে। আর এর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে, প্রশিক্ষিত লোকদেরকে তৃণমূল পর্যায়ের প্রশাসনিক ইউনিটে অর্থাত একেবারে গ্রাম পর্যায়ে পাঠিয়ে কাজ করানো।

খবরকে সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, সচেতনতামূলক এই প্রচারণা নেপালের জনসাধারণকে মাদকের খারাপ দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন করে তুলবে। আর এর ফলে, এখানে কমে যাবে মাদকের চাহিদা, ব্যবসা এবং উৎপাদন”। নারকোনন নেপালের সহযোগিতায় এই ক্যাম্পেইনটি শুরু হয়। এই সংগঠনটি নেপাল থেকে মাদকাসক্তি মুক্ত করার জন্য কাজ করছে।

মহারাজন বলেন, এই ক্যাম্পেইনের কথা জেনে তিনি খুবই খুশি হয়েছেন এবং তিনি আশা করেন যে, এটা তরুণ ছেলে মেয়েদের মাদকের ফাঁদে পড়ার কবল থেকে রক্ষা করতে পারবে।

তিনি বলেন, “যদিও আমাদের দেশে মাদক ব্যবহার, ব্যবসা, এবং চোরাচালানের বিষয়ে বেশ কিছু আইন আছে, তারপরও তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে সচেতনতামূলক কর্মসূচি’র অভাব ছিল। আমি আশাকরি, এই প্রচারনাটি মাদকের ক্ষতিকর কবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে”।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 9)

0 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • ramesh pandeyMay 2, 2013 @ 09:05:40AM

    দিনকে দিন আসক্তদের সংখ্যা বাড়ছে। স্কুল পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা দরকার কারণ অন্যথায় আমাদের দেশ ও সমাজ বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে।

  • Maria MeilakAugust 3, 2012 @ 04:08:49AM

    নেপালে নারকোনন ৷ এখন নেপাল অবশেষে লোকজনকে মাদকের কবল থেকে চিরদিনের জন্য মুক্ত করতে পারবে ৷ এই কর্মসূচি কাজ করে! “উচ্চ জীবনমান সমৃদ্ধ” একটি কর্মসূচি নেপালি জনগণের জন্য আবারো দরকার, মেথাডোন কর্মসূচির মত “উচ্চ মাদকে পরিপূর্ণ” কোনো কর্মসূচি নয় যা চারদিকে অনেক আছে ৷ করদাতাদের অর্থের অপচয় এবং মাদকাসক্ত ও তার প্রিয়জনদের অব্যাহত ক্ষয়ক্ষতির কথা আর নাই বা বললাম ৷ মাদক চিরতরে বিদায় হলে আপনি আপনার সামনে “জীবন” দেখতে শুরু করবেন যা ছিল নেপালের আগের অবস্থা ৷ নারকোননকে ধন্যবাদ - এটা এমন একটা কর্মসূচি যা কাজে লাগে!

  • IpanJuly 29, 2012 @ 02:07:48PM

    বেশ অবাক হলাম, এটাকে খুব সাধারণ কিন্তু বেশ দরকারি মনে হয়েছে ৷

  • CristinaJuly 29, 2012 @ 09:07:54AM

    মধ্যবর্তী সংবিধান অনুযায়ী মাওবাদীরা সরকার গঠন করতে পারবে না ৷ বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দ্বারাই কেবলমাত্র অপসারণ করা যাবে ৷ এবং আমি মনে করি না যে সিএ-তে কারো দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে ৷ প্রধানমন্ত্রী একই থাকবেন, কেবল মন্ত্রীরা ভিন্ন হবে ৷ এবং নির্বাহী বিভাগ এখনো ৭ দলীয় জোট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে ৷

  • Charles TonnaJune 21, 2012 @ 07:06:28PM

    নারকোনন যা করছে সেই কাহিনীটা আমার সত্যিই ভালো লেগেছে ৷ এটা দেখতে ভালো লাগে যে কেউ একজন যথাসাধ্য করছে এবং সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য চেষ্টা করছে ৷ আমি ১০ বছর ধরে মাদক নিয়েছি এবং এখন ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে মাদকমুক্ত আছি, এই জন্য আমি নারকোনন প্রোগ্রামে ব্যবহৃত জিনিসটার প্রতি ঋণী ৷ মেথাডোন প্রোগ্রাম হলো সময় ও টাকার সম্পূর্ণ অপচয় ৷ মাদকাসক্তদেরকে মেথাডোন দেয়াটা হলো মদে আসক্ত ব্যক্তিদেরকে বিনামূল্যে অ্যালকোহল দেয়ার মত একটা ব্যাপার, অর্ধেক ব্রেইন আছে এমন যে কেউও এটা বুঝতে পারবে ৷ মাদকাসক্তদেরকে মেথাডোন দেয়ার বদলে তাদের সবাইকে নারকোনন প্রোগ্রামে ভর্তি করে দিন এবং তাদেরকে চিরতরে মাদকমুক্ত করুন, আর এর ফলে যে কোটি কোটি ডলার সাশ্রয় হবে তা দিয়ে আপনি অনাহারী মানুষকে খাওয়াতে পারবেন অথবা শিক্ষাখাতে খরচ করতে পারবেন যেখানে মানুষ শিখবে কীভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নেয়া যায় ৷ নেপাল এখন বিদেশি বাজে জিনিসের কাছে উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়ে গেছে ৷ কারণ এখন আপনাকে মেথাডোন আসক্তদের জন্যেও টাকা দিতে হয় ৷

  • Kevin OwenJune 19, 2012 @ 02:06:16AM

    ভালো কাজ ৷ আমরা গত বছর এখানে নিউজিল্যান্ডে এই প্রচারণা চালিয়েছি এবং ভালো ফলাফল পেয়েছি ৷ “রতোরুয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য বিষয়ের মধ্যে ছিল ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ ৩৬.৭% কমে যাওয়া, জন-বিশৃঙ্খলার ঘটনা ২৫% কমে যাওয়া এবং অবৈধ মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ ৩১.২% কমে যাওয়া”।

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।