যুদ্ধোত্তর উত্তর এবং পূর্বঞ্চলীয় প্রদেশে অর্থনৈতিক বিস্ফোরণ

শ্রীলংকার যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকায় নানামুখী সুযোগ বেড়ে যাওয়ায় তারা অর্থনৈতিক উন্নতির মুখ দেখছে । আর এর কারণে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনাও বাড়ছে।

কলম্বো থেকে খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লিখেছেন প্রদীপ সেনেভিরাত্নে।

জুলাই 02, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> মন্তব্য পোস্ট করুন

যুদ্ধ পরবর্তী শ্রীলংকায় শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি আরও যে ইতিবাচক দিকগুলো দেখা গেছে, তার মধ্যে একটা হচ্ছে সবজি’র ক্রমবর্ধমান সহজলভ্যতা।

  • জাফনার একজন কৃষক সবজি চাষ করছে। ২০০৯ এর মে মাসে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের জন্য দক্ষিণে দারুন একটা বাজার পেয়েছে। যুদ্ধের পর শ্রীলংকার ডামবুলা’র সবজি’র বৃহত্তম পাইকারি বাজারে রমরমা অবস্থা এখন খুবই লক্ষণীয়। [সামান্থা পেরেরা/খবর]

    জাফনার একজন কৃষক সবজি চাষ করছে। ২০০৯ এর মে মাসে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের জন্য দক্ষিণে দারুন একটা বাজার পেয়েছে। যুদ্ধের পর শ্রীলংকার ডামবুলা’র সবজি’র বৃহত্তম পাইকারি বাজারে রমরমা অবস্থা এখন খুবই লক্ষণীয়। [সামান্থা পেরেরা/খবর]

উত্তর এবং পূর্ব প্রদেশের কৃষকরা প্রচুর সবজি উৎপাদন করছে, কারণ দক্ষিণ প্রদেশের ব্যবসায়ীরা এখন সহজেই এই উৎপাদিত সবজি পেতে পারছে। আর সবমিলিয়ে সাধারণ ভোক্তারা পাচ্ছে তা কম মূল্যে।

আর আগের যুদ্ধ উপদ্রুত এলাকার এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন সামগ্রিকভাবে প্রভাব ফেলছে দেশের উন্নতিতেই। গত কয়েক দশকের মধ্যে গেল বছর শ্রীলংকায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল সর্বোচ্চ।

জাফনার ৬৫ বছর বয়স্ক কৃষক বি. সাবারাত্নাম খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেন, “যুদ্ধের সময় আমি খুব সীমিত পরিসরে উৎপাদন করতাম। যা কিছু সবজি ফলাতাম, তা কেবল এই উত্তরেই বিক্রি করতাম। আর এখন আমি আমার উৎপাদনের জায়গা ও পরিমাণ বাড়াতে পারি। অনেক বছর ধরে যে জমিটি আমি পতিত ফেলে রেখেছিলাম, এখন সেখানেও আমি সবজি ফলাচ্ছি।

শ্রীলংকার অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশটির কৃষি খাতে উত্তর এবং পূর্ব প্রদেশ এখন গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ২০১১ সালে কৃষিখাতে শ্রীলংকার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১.৯%, অথচ আগের বছরই এটা ছিল ১১.২%।

মন্ত্রণালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর কৃষকরা আরও ১০৪,৭১৭ হেক্টর জমিকে ধান এবং সবজি চাষের আওতায় নিয়ে এসেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিব পি. বি. জয়াসুন্দরা জানান, উত্তর এবং পূর্ব থেকে প্রধানত পেঁয়াজ, আলু এসব আসছে। আর এর পরিমাণ গত বছরের কৃষি উৎপাদনের ২০ শতাংশ।

শ্রীলংকার শিল্প এবং সেবা সেক্টরেও প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। গত বছর এই দুই সেক্টরে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ১০.৩% এবং ৮.৬%। আর এই প্রবৃদ্ধির পেছনেও উত্তর এবং পূর্ব প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানান জয়াসুন্দরা।

জুনের প্রথম দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,“এসব মিলিয়ে, গত বছর শ্রীলংকার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮.৩%, গত ছয় দশকের মধ্যে এটা সর্বোচ্চ”।

কৃষিখাতে যুদ্ধোত্তর এই প্রবৃদ্ধি দৃশ্যমান হয়ে ওঠেছে দেশের সবজি’র বৃহত্তম পাইকারী বাজার ডামবুলায় ব্যবসার রমরমা ভাব থেকে। ডামবুলা হচ্ছে মধ্য প্রদেশের একটি শহর।

ডামবুলা ইকোনমিক সেন্টারের ম্যানেজার লাসানাথা সানজিভা জানান, এক উত্তর থেকেই তিনি প্রতিদিন ৫০ থেকে ৭০ লরি সবজি পেয়ে থাকেন। এইসব সবজির মধ্যে রয়েছে গাজর, মূলা, পেঁয়াজ, কাঁচামরিচ, বরবটি ও বিটরুট।

খবরকে তিনি বলেন, “যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে, আমরা সাধারণত সেখান থেকে ভরা মৌসুমেও ১০-১৫ বার সবজির চালান পেতাম। এখন সবজির বাড়তি এই উৎপাদনের কারণে ভোক্তারা লাভবান হচ্ছে, তারা কম মূল্যে কিনতে পারছে। উত্তরের এই বাড়তি উৎপাদনের কারণে কোন কোন সবজির দাম একেবারে অর্ধেক হয়ে গেছে। আমরা এখন জাফনা থেকে উৎপাদিত আঙ্গুরও পাচ্ছি”।

মৎস্য সম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী রাজিথা সেনারত্নে বলেন, এই দুই প্রদেশে ২০১০ সালে মৎস্য উৎপাদন ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

খবরকে সেনারাত্নে বলেন,“যুদ্ধের সময় এই দুই প্রদেশের সমুদ্র এলাকায় জেলেরা স্বাধীনভাবে মাছ ধরতে পারতো না। নানা ধরনের বিধিনিষেধ ছিল। এখন সেসব বিধিনিষেধতুলে নেয়া হয়েছে। জেলেরা এখন ইচ্ছামত মাছ ধরতে পারে। ২০১০ সালে এই দুই প্রদেশের মাছের মোট উৎপাদন ছিল ১২৫,৮৪০ টন। ২০১১ সালে সেটা বেড়ে হয়েছে, ১৫৫,৬৯০ টন”।

অর্থ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এই দুই প্রদেশে নির্মাণ খাতেও ৯.৩% প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০০৯ এর মে মাসের পর থেকে সেখানে বিভিন্ন ব্যাংক এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ২৬৭ টি নতুন শাখা চালু হয়েছে।

উত্তরের আর একজন কৃষক এন. কুগানাথন বলেন, তাদের ওখানে এই কৃষি বিপ্লবের আর একটি কারণ হচ্ছে সার এবং কীটনাশকের সহজলভ্যতা।

তিনি বলেন, “যুদ্ধ যখন চলছিল, আমরা দক্ষিণ থেকে কৃষি উপকরণগুলো পেতাম না। এখন আমরা ওগুলো বাজারেই পাই। এটা একটা বড় ব্যাপার। দক্ষিণের মুসলমান এবং সিংহলি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আমরা নতুন নতুন চুক্তি করেছি। তারা আমাদের উৎপাদিত পণ্য কিনে নিতে আসে। আমাদের বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে এই বিনিময়ে আমরা খুবই আনন্দিত”।

একজন সিংহলি ব্যবসায়ী এস. ধনপাল জানান, তরতজা সবজি এবং ফলমূল পেতে তিনি মৌসুমের সময় উত্তরে যান।

খবরকে তিনি বলেন,“জাফনার কৃষকরা সবচেয়ে উন্নতমানের সবজি ফলিয়ে থাকেন। তারা খুবই উদ্ভাবনী ক্ষমতা সম্পন্ন। তাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। যুদ্ধের এই সমাপ্তি আমাদের সকলের জন্যই সুবিধা করে দিয়েছে”।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের এই ব্যাপক কর্মকাণ্ডের পরও উত্তরের রাজনৈতিক নেতারা মনে করেন, যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই প্রদেশগুলোর মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নের আরও অনেক কিছু করা দরকার।

তামিল ইলম লিবারেশন অর্গানাইজেশন এর নেতা এম কে শিভাজিলিঙ্গম এ প্রসঙ্গে খবরকে বলেন, “কিছু এলাকায় মানুষ এখনও উদ্বাস্তুর মত আছে। যারা পুণর্বাসিত হতে পেরেছে, উত্তরের কিছু কিছু জায়গায় তারা কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়েছে। তারপরও, এখনও তারা অনেক পিছিয়ে আছে......আর এর কারণ হচ্ছে সামগ্রিক উন্নয়নের অভাব। এইসব মানুষের জন্য সরকারের আরও অনেক কিছু করা উচিত”।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 4)

0 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।