ভারতীয় বাহিনীর একটি সন্ত্রাস-দমন অভিযানের সময় বিদ্রোহী সদস্যদেরকে হত্যা করা হয় কিন্তু এতে বেসামরিক লোকজনও মারা যায়, সেই অভিযানের সমর্থনে বলতে গিয়ে ছত্রিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী নারী ও শিশুদেরকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার জন্য মাওবাদীদেরকে অভিযুক্ত করেন ৷
জুনের ২৭-২৮ তারিখে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি অভিযানে বেসামরিক লোকজন হতাহত হওয়ার কারণে নিরাপত্তা বাহিনী সমালোচনার মুখে পড়লে এই সপ্তাহে ভারতের অভ্যন্তরীন বিষয়ক মন্ত্রী দাবি করেন যে মাওবাদী বিদ্রোহীরা বেসামরিক লোকজনকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছিল৷
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) ও ছত্রিশগড় রাজ্য পুলিশ বাসাগুদা ও জাগারগুন্ডার গহীন জঙ্গলে ত্রিমুখী হামলা চালিয়ে ১৯ জন ব্যক্তিকে হত্যা করে ৷ পুলিশের মতে, মহেশ, সোমুলু ও নাগেশ নামক তিনজন শীর্ষ মাওবাদী নেতা, এই অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায় ৷
কিন্তু লড়ায়ের পর পরই বেসামরিক জনগণের জীবনহানি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, স্থানীয় লোকজন বলছেন যে হত্যার শিকার হওয়া অনেকেই নকশাল (মাওবাদীরা স্থানীয়ভাবে নকশাল নামে পরিচিত) ছিলেন না, কিন্তু জঙ্গিরা তাদেরকে জোর করে জঙ্গলে নিয়ে যায়, যেখানে তারা আকস্মিক হামলার শিকার হন ৷
বুধবারে (৪ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পি. চিদাম্বারম গভীর দুঃখ প্রকাশ করে বলেন যে নির্দোষ লোকজনকে হয়তো সহিংসতার মধ্যে টেনে আনা হয়েছিল ৷
“যদি মাওবাদীদের সাথে কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট নয় এমন কোনো মেয়ে, বা ছেলে বা পুরুষ বা মহিলা মারা যায়, তাহলে আমি কেবল গভীর দুঃখ জানাতে পারি,” তিনি বলেছেন বলে টাইমস অব ইণ্ডিয়া জানায় ৷
খবর দক্ষিণ এশিয়ার সাথে কথা বলার সময়, ছত্রিশগড়ের মুখ্য মন্ত্রী রমন সিং বলেন, বেসামরিক লোকজনের জীবনকে বিপদের মুখে ঠেলে দেয়ার জন্য জঙ্গিদেরকে অবশ্যই দায়-দায়িত্ব নিতে হবে৷
তিনি বলেন, “মাওবাদীরা গ্রামবাসীকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করেছিল ৷ যদি সাম্প্রতিক মাওবাদী-বিরোধী অভিযানের সময় নির্দোষ গ্রামবাসী মারা গিয়ে থাকে, তাহলে এর জন্য বিদ্রোহীদেরকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে”।
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টি এই অভিযান সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে, তারা বলেছে যে রাজ্যের বিধানসভার একজন জ্যেষ্ঠ আদিবাসী সদস্য কাওয়াসী লাক্ষার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি তথ্যানুসন্ধানকারী দল দেখতে পেয়েছে যে ১৫ বছর বা তারচেয়ে কম বয়সী সাতটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছে ৷
দলটির ছত্রিশগড় ইউনিটের সভাপতি নন্দ কুমার প্যাটেল, তার ভাষায় সিআরপিএফ সদস্যের “নির্বিচারে গুলিবর্ষণ” এর তদন্ত করার জন্য ১২-সদস্যের প্যানেলটি গঠন করেন ৷
প্যাটেল বলেন, “আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে মাওবাদী ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর মধ্যকার বন্দুকযুদ্ধে কয়েকজন মহিলা ও শিশু মারা গেছে”।
পুলিশ জানায় যে এই অভিযানের সময় তাদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়, যা প্রমাণ করে যে জঙ্গিরা জঙ্গলের মধ্যে ছিল ৷ ছয়জন আহত সিআরপিএফ জওয়ান (সৈন্য) রাজ্যের রাজধানী রায়পুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন, তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা সংকটাপন্ন ৷
সিআরপিএফ মহাপরিচালক বিজয় কুমার একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “আমরা গুলিবর্ষণ শুরু করেনি, বরং এটা অপর পক্ষ শুরু করেছিল ৷ আসলে, গোলাগুলিতে এত বেশি মানুষ আহত হয় যে আমরা নিজেদেরকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল”।
বিবৃতিতে বলা হয়, “দুইবার আমাদের জওয়ানরা পিছু হটে আসে যখন তারা দেখতে পায় যে মহিলা ও শিশুরা লড়াইয়ের সামনে চলে এসেছে”।
বিজাপুরের ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর রজত কুমার বলেন, অভিযানের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা যেভাবে আহত হয়েছে তাতে দেখা যায় যে কেবল বেসামরিক লোকজনই লক্ষ্যবস্তু ছিল না ৷
তিনি বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কীভাবে বুলেট ও মর্টারের আঘাতে আহত হতে পারে? এটা কি সম্ভব হতে পারে যে [গ্রামবাসীরা] পিপলস আর্মির সদস্য ছিল, যাদেরকে মাওবাদীরা এই ধরনের লড়াইয়ের সময় মানব ঢাল হিসেবে নিয়োগ করেছিল”।
কুমারের মতে, তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে সেই এলাকায় নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের উপর বড় ধরনের হামলা চালানোর জন্য গত কয়েক দিন ধরে বিপুল সংখ্যক সশস্ত্র মাওবাদী ক্যাডার বাসাগুদা ও জাগারগুন্ডা জঙ্গলের মধ্যে জড়ো হচ্ছিল ৷
তিনি বলেন, “আমাদের বাহিনীগুলোর সময়মত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ২০১০ সালের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া বড় ধরনের বিপর্যয়কর ঘটনার মত আরো ঘটনা এড়ানো গেছে যখন দান্তেওয়াদার চিন্তালনারের কাছকাছি একটি জায়গায় মাওবাদীদের হাতে ৭৫ জন সিআরপিএফ কর্মী নিহত হন”।
টাইমস অব ইণ্ডিয়ার মতে শহীদ সপ্তাহ বা “মার্টিয়ার উইক”-এর সময় (জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহকে নকশালরা শহীদ সপ্তাহ হিসেবে ডেকে থাকে) সহিংসতার আশংকা দূর করার একটা প্রচেষ্টা হিসেবে এই অভিযান চালানো হয় ৷
মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে
পাঠকের মন্তব্য
Malathi.AAugust 16, 2012 @ 05:08:13AM
চমৎকার কাজ