ডাকাতির সম্পত্তির শেষ ঠিকানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার

সমর্থকদের সহানুভূতি এবং চাঁদা হ্রাস পাওয়ার ফলে সন্ত্রাসী দলগুলো তাদের অর্থ সংগ্রহের জন্য অপরাধী চক্রের সাথে যুক্ত হতে বাধ্য হচ্ছে-এমনকি নিজেরা চুরি পর্যন্ত করছে।

জামসেদপুর থেকে খবর সাউথ এশিয়ার জন্য লিখেছেন চন্দন দাস

জুলাই 10, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> মন্তব্য পোস্ট করুন

ভারতের সন্ত্রাসী দলগুলি তাদের তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ করতে এই পরিমানে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে তারা ডাকাতি ও চুরি শুরু করেছে, সাম্প্রতিক সময়ের বিভিন্ন এবং চলমান ঘটনাগুলি সে কথাই নির্দেশ করছে।

  • ২০০৭এর মে মাসে প্রকাশিত উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুম্বাইএর গহনা-অলঙ্কার নির্মাতা এবং শ্রমিকদের একটি মিছিল চলাকালে লোকজন প্লাকার্ড অতিক্রম করছে।ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী দলগুলোর জঙ্গিদের কাছ থেকে জুয়েলারি ডাকাতির বিষয়টির ব্যপারে স্বীকারোক্তি পেয়েছে,যার মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়ন করে থাকে।[অর্ক দত্ত/রয়টার্স]

    ২০০৭এর মে মাসে প্রকাশিত উপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে মুম্বাইএর গহনা-অলঙ্কার নির্মাতা এবং শ্রমিকদের একটি মিছিল চলাকালে লোকজন প্লাকার্ড অতিক্রম করছে।ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসী দলগুলোর জঙ্গিদের কাছ থেকে জুয়েলারি ডাকাতির বিষয়টির ব্যপারে স্বীকারোক্তি পেয়েছে,যার মাধ্যমে তারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে অর্থায়ন করে থাকে।[অর্ক দত্ত/রয়টার্স]

১৪ই জুন, পালামু জেলায় একজন কেন্ডু পাতা ব্যবসায়ী বানওয়ারী গুপ্তের বাড়িতে হানা দেয়ার পর ঝাড়খণ্ডের পুলিশ চরমপন্থী পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়া(পি এল এফ আই)-এর পাঁচজন সদস্যকে গ্রেফতার করে।

“সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্যবসায়ীর বারীতে হানা দেয় ঐ অঞ্চলে তাদের অভিযান পরিচালনার প্রয়োজনীয় খরচ মেটানোর চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে’, খবর সাউথ এশিয়াকে বলেন পালামু পুলিশের পরিদর্শক অনুপ টি. ম্যাথ্যূ।

“আমরা পাঁচজন সন্ত্রাসীকে, চরমপন্থী দলের একজন উপ-আঞ্চলিক কমান্ডারসহ গ্রেফতার করি, এবং একটি মটরসাইকেল, তিনটি পিস্তল, প্রচুর তাজা গুলি এবং ১৫ লাখ রুপি (২৭,০০০ ডলার), যা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে সংগ্রহ করা হয়েছে, এসব তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়”, তিনি বলেন।

উপ-আঞ্চলিক কমান্ডার অশোক যাদব, নিরাজ সিং, সঞ্জীব যাদব, অখিলেশ যাদব এবং কমলেশ সিংসহ গ্রেফতারকৃত চরমপন্থীরা সবাই পালামুর অধিবাসী। লোকগুলির বয়স ২৫ থেকে ৩৫ এর মধ্যে।

ডাকাতির সোনা সন্ত্রাস সৃষ্টিতে ব্যবহার হচ্ছে

এ সময়ের মধ্যে, সবচেয়ে কুখ্যাত সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট ডাকাতির ঘটনা গোয়েন্দাদের লস্কর-ই-তৈয়বা (এল ই টি)-এর চরমপন্থার নেটওয়ার্ক সম্বন্ধে নতুন ধরনের দুঃশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে যখন মে মাসে দুইজন সন্দেহভাজন পরিকল্পনাকারী গ্রেফতার হয়, তারপর।

দশ বছর পূর্বে, একদল লোক কেরালার কোচির একজন জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে আক্রমন করে তার ২.২ কেজি সোনা নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে দুইজন, ইসমাইল (ডাকনাম বোমা ইসমাইল) এবং কে. পি. শাবীর বর্তমানে আটক আছে এবং তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে নিজেরাই জানিয়েছে।

চোরেরা, পুলিশ জানায়, ডাকাত দলের একটা অংশ “ যারা তাদিয়ানতাভাইদ নাজিরের নেতৃত্বে কাজ করছে, যে কিনা তার নিজের কেরালা রাজ্য এবং পাশের কর্ণাটকে অসংখ্য সন্ত্রাসী হামলার দায়ে অভিযুক্ত”, খবরকে বলেন কেরালার সাবেক ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (ডিজিপি) কে.জে. জোসেফ।

“আমাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে যে টাকা [ডাকাতি থেকে সংগৃহীত] ... ২০০৯ সালের ১০ই জুন এরনাকুলাম কালেক্টরেট-এ বিস্ফোরন পরিচালনার অর্থ যোগানের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে”, খবরকে ত্রিসুরের পুলিশের পরিদর্শক পি.এন. উন্নিরঞ্জন একথা জানান। “এর আগে, ২০০২ সালে, কিছু কিছু ডাকাতির অর্থ পরবর্তীতে কইমবাতোরের প্রেস ক্লাবে তাজা বোমা পেতে রাখার প্ল্যান্ট তৈরিতে ব্যবহার করা হয়”।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন, শাবির জঙ্গী কে.পি. শাবিরের ভাই যে ভারত থেকে পালিয়ে যায় যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠে যে, সে কেরালার তরুনদের চরমপন্থী সংগঠন লস্কর-ই- তৈয়বা (এল ই টি)-র সদস্য হিসাবে সংগ্রহ করছে।

নাজির, অভিযুক্ত নাটের গুরু, ২০০৯ সাল থেকে আটক রয়েছে, তখন তাকে বাংলাদেশ থেকে ধরা হয়। কেরালার অন্য আরেকজন সাবেক ডিজিপি, রমন স্রীভাস্তবার মতে, সে তার ২০০৮ সালের চরমপন্থা সংশ্লিষ্ট দুইটি চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে-যেগুলি যথাক্রমে বিনানিপুরাম এবং পেরুমবাভুরে ঘটে।

কর্তৃপক্ষের মতে, তার ডকাত দলের আটকের ফলে এল ই টি-র অর্থ সংগ্রহের প্রচেষ্ঠা দারুনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। “বর্তমানে, কেরালার চরমপন্থী সদস্যরা তৎপর নিরাপত্তা নজরদারীর ফলে খুব বিপদের মধ্যে আছে”, খবরকে বলেন কেরালা অপরাধ দপ্তরের ইন্সপেক্টর বিজু কে স্টিফেন।

“ নাজিরের জানিয়ে দেয়া সূত্রের উপর ভর করে, আমরা এখন আশা করছি কেরালায় এল ই টি-এর লুকিয়ে থাকা অবস্থানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারব”, তিনি যোগ করেন।

বিশ্লষকদের মতে, ঘটনাটি কোনভাবেই বিচ্ছিন্ন কোন কিছু নয়।

ন্যাশনাল ইভেস্টিগেটিং এজেন্সীর পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল লোকনাথ বেহারার মতে, মধ্য প্রদেশ রাজ্য, যা তার চম্বল গিরিখাতের জন্য বিখ্যাত, এটি অনেকগুলি কুখ্যাত ডাকাত (নিষিদ্ধ) দলের জন্য পরিচিত। পুলিশ জানায়, তারা এ সমস্ত দল এবং নিষিদ্ধ চরমপন্থী দল, যেমন, ইন্ডিয়ান মুজাহেদীন (আইএম) এবং স্টুডেন্ট ইসলামিক মুভমেন্ট অব ইন্ডিয়া (এস আই এম আই)-এর সাথে যগসূত্র খুঁজে পেয়াছেন।

গ্রেফতারকৃত চরমপন্থী “স্বীকার করেছে কমপক্ষে পাঁচটি বড় ব্যাংক ডাকাতিতে তাদের অংশগ্রহনের কথা, যার মধ্যে রয়েছে দেওয়াতে দুইটি এবং মানদিত, ইতারসি, জাওরা এবং পিপলিতে একটি করে”, মধ্য প্রদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (এন্টি টেররিজম স্কোয়াড) ভিপিন মহেস্বরী বলেন।

যখন চাঁদা এবং সহায়তা কমে যাচ্ছে, পুলিশের বিশ্বাস, আই এম এবং এস আই এম আই-এর গচ্ছিত সম্পদ শেষ হয়ে আসছে, যা তাদেরকে তাদের কর্মকাণ্ডের প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের জন্য নতুন নতুন পথের সন্ধান করতে বাধ্য করছে।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 1)

0 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।