বৃষ্টির পানিতে সয়লাব জঙ্গল থেকে বিদ্রোহীরা স্থানীয় গ্রামগুলিতে আশ্রয় নিয়েছে, যেখানে তারা স্থানীয়দের চাপ প্রয়োগ করছে এবং নতুন সদস্য খুঁজছে।
যদিও বাৎসরিক বর্ষাকাল ভারতের কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ স্বরুপ, তবে তা মাওবাদীদের বিদ্রোহে প্রভাবান্বিত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিপদও বয়ে আনে। জঙ্গীরা, যারা নকশালপন্থী হিসাবে পরিচিত, বর্ষা কালে বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া জঙ্গল ত্যাগ করে যা গ্রামবাসীদের জন্য বাড়তি চাপ হিসাবে আসে, কারণ তারা সেখানে সভা করে এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনার ছক আঁকে।
“আমরা ক্যাচ-২২ ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি”, খবর সাউথ এশিয়াকে জানান ঝাড়খন্ডের গ্রামবাসী পরেশ মাহাতো। “একদিকে, ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাদেরকে মাওবাদীদের আশ্রয় দিতে বাধ্য করা হয়, অন্যদিকে, পুলিশ আমাদেরকে চরমপন্থীদের সহয়তাদানকারী হিসাবে সন্দেহ করে। আমরা মাওবাদীদের খাদ্য এবং আশ্রয় দিতে বাধ্য হই, যদিও আমাদের পরিবারকে দেয়ার মত পর্যাপ্ত খাবার আমাদের নেই”।
নিরাপত্তা কর্ম কর্তাদের জন্য বৃষ্টি একটি চ্যালেঞ্জ। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মারাত্মক বন্যা তাদেরকে ব্যস্ত রেখেছে ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে, ফলে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য জনবল অপর্যাপ্ত হয়ে পড়ছে। বন্যার ফলে হিসাবমতে প্রায় ২০ লক্ষ লোক স্থানান্তরিত হয়েছে, এর মধ্যে আসামের রাজধানী গোয়াহাটিতে আঘাতটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে, এসময় জলমগ্ন মাঠ এবং জঙ্গল সৈন্যদের চলাফেরাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
“এমনকি দুইমাস আগে, পুলিশ বাহিনী জঙ্গলের মধ্য দিয়ে কুচকাওয়াজ করে যেতে পারত, কিন্তু এখন, বৃষ্টির ফলে সেটি খুবই কষ্টসাধ্য”, খবরকে বলছিলেন পশ্চিম মেদনীপুরের পুলিশের পরিদর্শক (এস পি) সুনীল চৌধুরী। “গহীন জঙ্গল আসলে বাস্তব অর্থেই অনভিগম্য এবং এর ফলে ঐ এলাকাতে মাওবাদী বিরোধী অভিযানে প্রভাব পড়েছে”।
বেলাপাহারী এবং লালগড়ের মত গ্রাম গুলিতে আশ্রয় নেয়া বিদ্রোহীরা স্থানীয় নেতাদের হুমকি ধামকি দিচ্ছে এবং মাওবাদীদের পক্ষাবলম্বনের জন্য নতুন সদস্য আহরনের জন্য লোকজনকে প্রলুব্ধ করছে বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
“মাওবাদীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে। তারা প্রশিক্ষণ ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম চালু করেছে”, খবরকে বলেন পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আই জি পি) গঙ্গেশ্বর সিং। “নিরাপত্তা বাহিনী বৃষ্টির কারণে তাদের খুঁজে পাচ্ছেনা; অন্যদিকে সতর্ক তৎপরতা কমবেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সে যাই হোক, পুলিশ এ সমস্যা সমাধান করার জন্য অন্য ধরনের পথ নিয়েছে”।
ঝাড়খন্ডের আই জি পি, এস এন ভগত জোর দিয়ে বলেন, এ বন্যা সত্বেও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
শুধুমাত্র বর্ষার কারণে মাওবাদীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান বন্ধ হতে পারেনা”, তিনি খবরকে বলেন। “গত বর্ষার সময়, মাওবাদীদের পশ্চিম সিংভু্ম জেলার সরন্দা থেকে বের করে দেয়া হয়”।
“যদি সেই কঠিন অভিযান সম্ভব হয়, তবে এবছরও, তা রাজ্যের অন্য কোন অঞ্চলেও সফল হবে”, তিনি বলেন।
মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে
পাঠকের মন্তব্য
akshit bhardwajAugust 13, 2012 @ 09:08:10AM
এটা খুবই আকর্ষণীয় নিবন্ধ ৷ খুব ভালো ৷
ramashish shinghAugust 13, 2012 @ 02:08:56AM
দেশটিতে শান্তি না আসা পর্যন্ত সরকারের অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত
prajapatirajAugust 13, 2012 @ 02:08:58AM
বার্মা কি, এবং বার্মায় মুসলমানদের উপর আক্রমণ হচ্ছে
veeruAugust 11, 2012 @ 02:08:55AM
খুব ভালো একটা কাজ৷ এটা চালিয়ে যান................
ramesh chandraAugust 6, 2012 @ 05:08:46AM
মাওবাদীরা দেশের শান্তি প্রক্রিয়ায় সম্মত না হওয়া পর্যন্ত সরকার মাওবাদীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যাওয়া উচিত ৷
akash kaushalAugust 5, 2012 @ 01:08:56AM
হাই, এটা ভালো
anandAugust 3, 2012 @ 01:08:32AM
সর্বশেষ খবর জানার জন্য এটা একটা দ্রুততর উপায়, আমি এটা অত্যন্ত পছন্দ করি ৷
VIJAYAugust 2, 2012 @ 01:08:35AM
এটা অত্যন্ত দরকারি ও আকর্ষণীয় নিবন্ধ ৷ মাওবাদীরা জঙ্গল থেকে বের হয়ে যাচ্ছে এবং গ্রামে এসে ঢুকছে ৷
r.ganeshJuly 25, 2012 @ 04:07:36AM
অত্যন্ত ভালো চরিত্র
kumar gouravJuly 25, 2012 @ 12:07:22AM
আমি আমার ভারতকে ভালোবাসি
Hari prasad.nJuly 22, 2012 @ 02:07:05AM
ভালো