যে সব শিশুদের বাবা-মায়েরা বিদ্রোহের শিকার হয়েছেন তাদেরকে ছত্রিশগড়ের একটি নতুন হোম আশ্রয়, শিক্ষা ও আরো অনেক কিছু দিচ্ছে ৷
আট বছর বয়সী মঞ্জু উল বুনতে পছন্দ করে, এবং পাশের রুমে ঘুমিয়ে থাকা তার ৪ বছর বয়সী ভাইয়ের জন্য নীরবে একটি সোয়েটার বোনার জন্য সে রাতে তার রুমে যায়৷ তার বন্ধু সুর্মি তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে পছন্দ করে এবং তার মনোযোগ নষ্ট করার জন্য প্রায়ই তার আশেপাশে ঘোরাফেরা করে ৷
কিন্তু এই সব শিশুদের জন্য জীবন বড় কঠিন৷২০০৯ সালের জুনে, তাদের বাবারা ছিন্দগড় গ্রামে কীটনাশক কিনতে গিয়েছিলেন, তারা মাঠে কাজ করতেন ৷ তাদের নিজেদের গ্রাম চিত্তলগুদায় ফেরার পর, মাওবাদী বিদ্রোহীরা তাদের বাড়িতে হানা দিয়ে তাদেরকে হত্যা করে৷
ছত্রিশগড়ের দান্তেওয়াদায় মঞ্জু ও সুর্মির মত আরো প্রচুর ছেলেমেয়ে আছে যারা জঙ্গিদের সহিংসতার শিকার৷ এখন এই সব এতিমদের জন্য আস্থা (বিশ্বাস) একটা আশার আলো হিসেবে দেখা দিয়েছে - এটি দান্তেওয়াদা ও ছত্রিশগড়ের অন্যান্য জেলার গৃহহীন শিশুদের জন্য একটি অনাথ-আশ্রম৷ এই হোম জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় বেসরকারি সংগঠনগুলোর (এনজিও) একটি যৌথ উদ্যোগ ৷
ছত্রিশগড়ের নারী ও শিশু উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী লতা উসেন্দি খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেন, “মাওবাদীরা দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য ছত্রিশগড়ে মৃত্যু ও ধ্বংসের চিহ্ন রেখে গেছে ৷ নির্দোষ মানুষের উপর তাদের হামলার কারণে এই অঞ্চলের অনেকে এতিম ও গৃহহীন হয়েছে”।
উসেন্দি বলেন, “এই লক্ষ্যে আস্থা হলো প্রথম পদক্ষেপ এবং এর সাফল্যের কারণে আমরা মাওবাদীদের সহিংসতা দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য এরকম আরো অনেকগুলো হোম তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ আসলে, এই ধরনের কয়েকশ’ ছেলেমেয়ে আছে এবং আমরা কেবলমাত্র অল্প কিছু ছেলেমেয়েকে আশ্রয় দিতে পেরেছি৷ আরো অনেক কিছু করতে হবে”।
প্রায় ১২৩টি ছেলে ও ১২৭টি মেয়ে আস্থায় আশ্রয় পেয়েছে ৷ কিছু কিছু ছেলেমেয়ের মায়েদেরকেও আশ্রয় দেয়া হয়েছে, এবং তারা রান্না-বান্না ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় সাহায্য করেন ৷
৬ বছর বয়সী শিব যাদবের মা ভিম যাদব ও ২ বছর বয়সী শহীদ খানের মা কুরেশিয়া বেগম হোমের জন্য রাঁধুনি হিসেবে কাজ করেন ৷
কুরেশিয়া খবরকে বলেন, “আস্থা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা অবলম্বন ৷ যদি তারা আমাদের পাশে না দাঁড়াতো, তাহলে আমাদের জীবন শেষ করে দেয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প থাকতো না”।
নতুন করে শুরু করতে শিশুদেরকে সাহায্য করা
চৌদ্দ বছর বয়সী কমলা সেই দিনটির কথা মনে করে যে দিন তার বাবার লাশ খুঁজে পাওয়া যায় ৷ তার বাবাকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাওবাদীরা তাকে কুপিয়ে মেরে ফেলে ৷
সে খবরকে বলে, “আমি খালি কেঁদেছি আর কেঁদেছি, আর আমার দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যায় যখন ২০০৬ সালে আমার মা মারা যায়”।
কখনো কখনো বিষন্নতা তাকে ঘিরে ধরে, কিন্তু সে গান গাওয়ার মাধ্যমে এটা মোকাবেলা করার কৌশল শিখে নিয়েছে ৷ মেয়েদের হোস্টেলের দায়িত্বে থাকা সুষমা দাস, ছোট মেয়েদের জন্য কোচিং সেশন শুরু করেছেন ৷
এছাড়াও আস্থার ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে ভর্তি ও কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়ে (সেন্ট্রাল স্কুলে) লেখাপড়া করার জন্য কোচিং দেয়া হয়৷ বড় ছেলেমেয়েদেরকে মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং এর মত বিষয়গুলোতে ভর্তির জন্য কোচিং দেয়া হয় ৷
‘ছু লো আসমান’ (আকাশকে স্পর্শ করো) নামক একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে, তারা গণিত ও বিজ্ঞানে প্রশিক্ষণ পাচ্ছে৷ ২০১১ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের পরিকল্পনা দান্তেওয়াদার ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর ও. পি. চৌধুরীর মাথা থেকে এসেছে ৷
আস্থার সুপারিনটেন্ডেন্ট সুমাথি লাল খবরকে বলেন, “শিক্ষকদেরকে, যাদের অনেকেই বাইরের এলাকাগুলো থেকে এসেছেন, দান্তেওয়াদার বালুদ ও কারলির আবাসিক স্কুলগুলোতে স্থান দেয়া হয়েছে এবং তারা সেই সব ছেলেমেয়েদেরকে বিজ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন যারা বোর্ডের প্রথম পরীক্ষার পর এই বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে ৷ ১৮০টি মেয়েসহ, প্রায় ৩২০টি ছেলেমেয়েকে এই সব স্কুলগুলোতে পাঠদান করা হয়েছে এবং এর সব খরচ রাজ্য সরকার বহন করছে”।
কারলির একজন শিক্ষার্থী ভিনা তার শিক্ষকদেরকে অবাক করে দেয় যখন সে ফার্মাসির ভর্তি পরীক্ষায় পাস করে ৷ কারলির আরেক শিক্ষার্থী রেশমি, মেডিকেল স্কুলের পরীক্ষায় পাস করার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ৷
“এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমি সত্যিই কঠোর পরিশ্রম করছি,” মুচকি হেসে খবরকে বলেছে ভিনা ৷
মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে