বিক্রমের গ্রেপ্তারে মাওবাদীদের হাহাকার

সামরিক প্রধান কিষেণজির মৃত্যুতে ইতিমধ্যেই টালমাটাল অবস্থায় থাকা এবং শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের সংকটে নিপতিত বিদ্রোহীরা আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারিয়েছে ৷

পুরুলিয়া থেকে খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লিখেছেন চন্দন দাস

অগাস্ট 02, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 2 টি মন্তব্য

গত নভম্বরে, মাওবাদী বিদ্রোহীরা এক চরম আঘাত পেয়েছিল যখন তাদের সামরিক নেতা, মাল্লোজুলা কোটেশ্বর রাও, ওরফে কিষেণজি, ঝাড়খন্দের সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গের একটি জঙ্গলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়৷

  • কারাগারে নেওয়ার আগে গ্রেপ্তারকৃত মাওবাদী নেতা বিক্রম ওরফে অর্ণব দামকে (মুখ ঢাকা অবস্থায়) পুরুলিয়া পুলিশের সাথে দেখা যাচ্ছে৷ তার গ্রেপ্তার মাওবাদীদের ক্ষমতার শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে৷ [অনির্বাণ বন্দোপাধ্যায়/খবরের জন্য]

    কারাগারে নেওয়ার আগে গ্রেপ্তারকৃত মাওবাদী নেতা বিক্রম ওরফে অর্ণব দামকে (মুখ ঢাকা অবস্থায়) পুরুলিয়া পুলিশের সাথে দেখা যাচ্ছে৷ তার গ্রেপ্তার মাওবাদীদের ক্ষমতার শূন্যতাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে৷ [অনির্বাণ বন্দোপাধ্যায়/খবরের জন্য]

তারপর থেকে, অন্যান্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী নেতাকে হত্যা বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে অথবা আত্মসমর্পণ করতে রাজি করানো হয়েছে৷ এদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী) এর রাজ্য কমিটির নেতা অর্ণব দাম, যিনি বিক্রম নামে সমধিক পরিচিত ৷

তাকে ১২ জুলাই তারিখে আটক করা হয়, এবং এই ঘটনাকে নিরাপত্তা বাহিনী কিষেণজির মৃত্যুর পর তাদের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর একটি হিসেবে মনে করে ৷

পুরুলিয়ার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট (এসপি) সি সুধাকর খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেন, “আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছিল যে সিপিআই (মাওবাদী) এর সামরিক শাখা পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মির একজন সক্রিয় সদস্য বিক্রম এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের হামলা পরিচালনার লক্ষ্য নিয়ে তার দলের ক্যাডারদের সাথে দেখা করার জন্য পুরুলিয়ায় আসবে”।

তিনি বলেন, “যেহেতু এই দলটি এই অঞ্চলে তাদের মূল ভিত্তি হারিয়ে ফেলছিল এবং তারা ইতিমধ্যেই সাধারণ জনগণের কাছ থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিল, তাই স্থানীয় জনগণকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা এবং তাদেরকে ভয় দেখিয়ে তাদের কব্জায় আনার জন্য সে এই অঞ্চলে একটি নাশকতামূলক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করে”।

বিশ্লেষকরা বলছেন যে এই গ্রেপ্তারের ফলে মাওবাদীরা এমন একটি সময়ে একজন সম্ভাব্য নেতাকে হারালো যখন এই ধরনের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারানোটা তাদের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়েছে ৷ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি - খড়গপুরের একজন প্রাক্তন ছাত্র এবং বিজ্ঞানে ডিগ্রিধারী বিক্রমের মেধা দলের মধ্যে তার উত্থানকে ত্বরান্বিত করে এবং মনে হয়েছিল যে তিনি শীর্ষস্থানে গিয়ে পৌঁছাবেন৷

তবে, এই গ্রেপ্তার সেই এলাকার গ্রামবাসীদের জন্য দীর্ঘ-প্রতীক্ষিত স্বস্তি নিয়ে আসে, এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাদেরকে আনন্দ করতে দেখা যায়৷

দুখু প্রধানের স্ত্রী এবং স্থানীয় গ্রাম সংগঠনের (পঞ্চায়েত) প্রধান চপলা গারাত ২০১০ সালে মাওবাদীদের দ্বারা সংঘটিত বাগবিন্ধ্যা গণহত্যায় মারা যায়, তিনি খবরকে বলেনঃ “আমরা বিক্রমের জন্য মৃত্যুদণ্ডের চেয়ে কম কোনো শাস্তি চাই না”।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নিরাপত্তা অভিযানের কারণে সীমিত হয়ে পড়া, এবং স্থানীয় জনগণ নিন্দা জানানোর কারণে, কিষেণজি-পরবর্তী সময়ে এই বিদ্রোহ বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে ৷

“মাওবাদীরা নিঃসন্দেহে ভালো নেতৃত্বের অভাবে ভুগছে এবং তারা সাধারণ জনগণের সহানুভূতি হারিয়েছে ৷ তাদের জনসমর্থনের ভিত্তি ক্ষয় হয়ে গেছে এবং চরমপন্থীদের জন্য গ্রামীণ জনগণের কোনো সহানুভূতি নেই,” বলেছেন প্রবাল মাহাতো, দিল্লি-ভিত্তিক একজন পর্যবেক্ষক যিনি ঝাড়খন্দ, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গে মাওবাদীদের কার্যক্রমকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করে আসছেন ৷

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব জি. কে. পিল্লাই এর মতে, নভেম্বর থেকে ২২ জন শীর্ষ বিদ্রোহীকে হত্যা করা হয়েছে ৷ মাহাতো বলেন, “বিক্রমের গ্রেপ্তার মাওবাদী নেতৃত্বের জন্য আরেকটি মৃত্যুঘন্টার ধ্বনি হিসেবে দেখা উচিত”।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 5)

2 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • Syed M. ZamalAugust 7, 2012 @ 05:08:04AM

    প্রিয় স্যারবৃন্দ, আমি সম্প্রতি আপনাদের নিউজলেটারটি খুঁজে পেয়েছি এবং এর গ্রাহক হয়েছি ৷ ইস্যুগুলো ঠিক আছে বলেই মনে হচ্ছে ৷ ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কিত লেখাগুলোর উপর আরো বেশি গুরুত্ব দেয়ার জন্য আমার একটা ব্যক্তিগত পরামর্শ আছে ৷ এটা উদ্দেশ্যমূলকভাবে করা দরকার - অন্ততপক্ষে বিশ্বের এই অঞ্চলের জন্য ৷ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলমানদের একটা বড় অংশ অত্যন্ত গোঁড়া এবং তারা সবগুলো সমস্যার সৃষ্টি করছে ৷ তাদের কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটা করছে - আর কেউ কেউ নিজেদের অজান্তেই এটা করছে ৷ তাই আমাদের একটা প্রচারণা শুরু করা দরকার - যদি আমরা আসলেই এই বিশ্বকে বাসযোগ্য রাখতে চাই এবং জঙ্গিদের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করতে চাই ৷ আপনারা হয়তো সচেতন আছেন যে, বিশ্বের এই অঞ্চলের মুক্ত চিন্তার মানুষরা উন্মুক্তভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করার পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না, এর কারণ হলো হয় তাদের নিজেদের সরকারের আরোপিত বিধি-নিষেধ অথবা তথাকথিত জঙ্গিদের হামলার ভয় ৷ যেমন বাংলাদেশে, আমি কোনো ইসলামী দলের বিরুদ্ধে কোনো কিছু লিখতে ভয় পাই কিন্তু আমি অকপটে আমার মতামত প্রকাশ করতে চাই এবং এই জন্য কোনো যথাযথ প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছি না! সুতরাং, যদি কোনো বাড়তি পথ, বিশেষ করে ইসলামী সংগঠনগুলো বা তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অর্থবহ প্রচারণা সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণা থাকে, তাহলে আমি সম্পৃক্ত হতে পারলে খুশি হবো ৷ দয়া করে আমাকে আপনাদের মতামত জানাবেন ৷ সেইসাথে, আমি খেয়াল করেছি যে আপনাদের বাংলা সংস্করণে “HOMEPAGE” এর বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে <নীড়পাতা>৷ যদিও বাংলায় “HOME” এর অর্থ হলো <নীড়> এবং “PAGE” এর অর্থ হলো <পাতা> কিন্তু কোনো অবস্থাতেই “HOMEPAGE” কে <নীড়পাতা> হিসেবে অনুবাদ করা যায় না ৷ বস্তুত, অন্য সব বাংলা সংবাদপত্রের মত আপনারা এটাকে সহজভাবে “HOMEPAGE” বলতে পারেন ৷ শুভেচ্ছান্তে, বিডি

  • Achintyamay BandyopadhyayAugust 3, 2012 @ 03:08:26AM

    এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটা খবর ৷ আমি মাওবাদী শীর্ষ নেতা বিক্রম সম্পর্কে জানার জন্য খুব আগ্রহী ছিলাম, এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আমি সেই সম্পর্কে তথ্য পেলাম ৷ আশা করি পুরুলিয়া-পশ্চিমবঙ্গ (ভারত)এর মত দুর্গম জায়গা থেকে এই ধরনের নিবন্ধ ঘন ঘন প্রকাশিত হবে ৷

ভোট

বিশিষ্ট আলেম মাওলানা ওয়াহিদউদ্দীন খানের মতে, “ইসলামে চরমপন্থা অনুমোদনযোগ্য নয়”৷ আপনার মতে, মুসলমান আলেমরা কি বিশ্বাসীদেরকে ইসলামি চিন্তা-ধারনার সত্যিকারের প্রকৃতি সম্পর্কে শিক্ষিত করে তোলার জন্য যথেষ্ট ব্যবস্থা নিয়েছেন?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।