হিজবুল মুজাহেদীনঃ দুর্বল হয়ে যাওয়া সন্ত্রাসবাদী দল

প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হওয়ার ফলে স্থানীয় সমর্থন হারানোর পাশাপাশি, হিজবুল মুজাহেদীন এখন নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা লাভের জন্য সংগ্রাম করছে ৷

নয়াদিল্লি থেকে খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লিখেছেন এ.টি. সিং

অগাস্ট 03, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 1 টি মন্তব্য

গত মাসের প্রথম দিকে, বিচার থেকে আপাতদৃষ্টিতে রেহাই পাওয়ার নির্লজ্জ প্রদর্শনী হিসেবে হিজবুল মুজাহেদীনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন পাকিস্তানের রাওয়ালাপিণ্ডিতে একটি উন্মুক্ত সমাবেশে নতুন সদস্য ও তহবিল চেয়েছেন ৷

  • ১৮ অগাস্ট ২০১১ তারিখে জম্মুতে একটি অনুষ্ঠানের সময় জম্মু পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) দিলবাগ সিং (ডানে) আত্মসমর্পণকারী হিজবুল মুজাহেদীন জঙ্গিদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র গ্রহণ করছেন ৷ হিজবুল ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে কারণ দলটি নতুন সদস্য ও নতুন আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় রয়েছে ৷ [স্ট্রিঙ্গার/রয়টার্স]

    ১৮ অগাস্ট ২০১১ তারিখে জম্মুতে একটি অনুষ্ঠানের সময় জম্মু পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) দিলবাগ সিং (ডানে) আত্মসমর্পণকারী হিজবুল মুজাহেদীন জঙ্গিদের কাছ থেকে একটি অস্ত্র গ্রহণ করছেন ৷ হিজবুল ক্রমাগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে কারণ দলটি নতুন সদস্য ও নতুন আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় রয়েছে ৷ [স্ট্রিঙ্গার/রয়টার্স]

এই সমাবেশকে “শুয়াদা কনফারেন্স” হিসেবে ডাকা হয় এবং এটি গ্যারিসন শহরের সোয়ান আড্ডা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়, আল-বদর মুজাহেদীন নামে পরিচিত হিজবুল মুজাহেদীন ভেঙে বেরিয়ে যাওয়া একটি অংশ এই সমাবেশের আয়োজন করে ৷

“আমরা কাশ্মিরে যুদ্ধ করছি ৷ আমাদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হলে আমাদের কিছুই আসে যায় না,” পরিচিত আলঙ্কারিক ভাষা প্রয়োগ করে ঘোষণা করেন সালাহউদ্দিন ৷

এই ধরনের নাটকীয় আচরণ দীর্ঘদিন ধরেই সালাহউদ্দিনের একটি বৈশিষ্ট্য, কিন্তু এখন আর এর গুরুত্ব আছে কিনা তা আরেক প্রশ্ন ৷ ১৯৮৬-৮৭ সালের দিনগুলো থেকে এখন অনেক কিছু বদলে গেছে যখন তিনি তার .৩০৩ রাইফেল দুলিয়ে শ্রীনগরে মিনিবাসের ছাদের উপর চড়তেন এবং তার তরুণ সমর্থকদেরকে সাথে নিয়ে চিৎকার করে স্লোগান দিতেন ৷

২০০৯ সালের প্রথম থেকে, হিজবুলের দুর্বল হয়ে পড়ার লক্ষণ দেখা যেতে শুরু করে ৷ দলটির সহিংসতা চাপিয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা বিক্ষিপ্ত ও অকার্যকর হয়ে ওঠে ৷ এর ক্যাডারদের সংখ্যা কমে যায় এবং এর তহবিল শুকিয়ে আসে ৷ এদিকে, যে সব তরুণ আগে হিজবুলকে সমর্থন করতো তারা হিজবুলের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতার কারণে হতাশ হয়ে পড়ে, এবং চরমপন্থী সহিংসতার উপর তারা এখন বিরক্ত ৷

“এই হতাশা তৈরি হয়েছে এই উপলব্ধির ফলে যে ক্ষমতার শীর্ষে থাকার সময় হিজবুল তার লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি -- যা ছিল কাশ্মিরকে ভারত থেকে পৃথক করা,” খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেছেন মোজাফ্ফর আহমেদ দার, হিজবুলের একজন প্রাক্তন অপারেশনাল কমাণ্ডার যিনি বর্তমানে জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্ট ঘটনার কারণে বিচারের সম্মুখীন ৷

সন্ত্রাসবাদী দলগুলো সম্পর্কে একজন পাকিস্তানি বিশেষজ্ঞ আলী কে চিশতির মতে, চরমপন্থী হুমকিও আরো কমে গেছে ৷ তিনি টেলিফোনে খবরকে বলেন, “পাকিস্তানি অংশে, হিজবুলের প্রচুর ক্যাডার অন্যান্য সন্ত্রাসী দলগুলোতে চলে গেছে,” বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানে (টিটিপি) ৷

“হিজবুল ক্যাডাররা এখন টিটিপি-এর সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং প্রশিক্ষণ ও ব্যবসার জন্য নিয়মিতভাবে উপজাতি এলাকায় যাতায়াত করে ৷ এই যাতায়াত নিশ্চিতভাবেই দ্বিমুখী, যেহেতু পাঞ্জাবি তালেবানরা দক্ষিণ পাঞ্জাবে তালেবান ও আল-কায়েদার শীর্ষ জঙ্গিদেরকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে থাকে”।

জঙ্গিদেরকে রাষ্ট্রীয় সমর্থন দেয়ার জন্য ভারত দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে ৷ কিন্তু ফ্রন্টলাইন ম্যাগাজিনের ২০০৭ এর মে মাসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তালেবানের সাথে পাকিস্তানি সরকারের সংঘাত বেড়ে যাওয়ার সাথে সাথে সমর্থনের পরিমাণ কমে গেছে ৷ এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিযবুলের জন্য অনুমোদিত তহবিল দিয়ে “যুদ্ধে নিহত ক্যাডারদের পরিবারের জন্য হিযবুল বার্ষিক যে অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাও পূরণ হয় নাই, এই অর্থের আনুমানিক পরিমাণ ২৭ মিলিয়ন ভারতীয় রুপি (৪৮৪,০০০ ডলার)”।

এটা সালাহউদ্দিনের জন্য একটা দুর্ভাগ্যজনক মোড়, যিনি সৈয়দ মোহাম্মদ ইউসুফ শাহ নামে ভারতীয় কাশ্মিরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ৷ তার নেতৃত্বে, হিযবুল এই উপমহাদেশের ভয়ঙ্করতম সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর একটিতে পরিণত হয় ৷ ১৯৯০ সালের মে মাসে শ্রীনগরের ধর্মীয় প্রধান মিরওয়াইজ মৌলভী ফারুকের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে ২০০৪ সালে দক্ষিণ কাশ্মিরে একটি আধাসামরিক কনভয়কে উড়িয়ে দিয়ে ৩৩ ব্যক্তিকে হত্যা করা পর্যন্ত, এর কৌশলগুলো ছিল ভয়ঙ্কর ও নৈতিকতাবিহীন ৷

এছাড়াও যে কোনো অভ্যন্তরীণ ভিন্নমতকে সহিংসভাবে দমনের ক্ষেত্রেও এটি খ্যাতি অর্জন করে ৷ কাশ্মিরে এর প্রধান কমাণ্ডার ছিলেন আবদুল মজিদ দার ৷ ২০০০ সালে তিনি ভারতকে শর্তাধীনে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিলে সালাহউদ্দিনের সাথে তার সংঘাত শুরু হয় এবং এরপর তাকে হত্যা করা হয় ৷

১৯৯০ এর দশকে হিযবুলের ক্ষমতার শীর্ষ সময়ে, দলটি কাশ্মিরের মধ্যে জামাত-ই-ইসলামীর অসংখ্য কর্মীর মাধ্যমে প্রচুর তহবিল সংগ্রহ করে ৷ স্থানীয় জনগণ হিযবুলের জঙ্গিদেরকে খাবার, জামা-কাপড় ও আশ্রয় দিয়ে সাহায্য করতো ৷ কিন্তু তারপরেও হিযবুল ভারতকে পরাজিত করতে পারেনি ৷

“এখন যেহেতু ভারত অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে, তাই অধিকাংশ মানুষই কোনো ম্যাজিক ঘটনার প্রত্যাশা করছে না ৷ কিন্তু এই জঙ্গি গোষ্ঠীটিকে মূলত যে বিষয়টি দুর্বল করে ফেলেছে তা হলো এই অঞ্চলের সার্বিক আর্থ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি,” বলেছেন দার ৷ “এই দলটির যে পরিমাণ সম্পদ - তহবিল ও কর্মী ছিল, তা এখন আর নেই”।

এতে অবাক হওয়ার কিছুই নেই যে সালাহউদ্দিন তহবিল ও নতুন কর্মী সংগ্রহ করার জন্য পাকিস্তানে উন্মুক্ত সমাবেশের আয়োজন করছে, সরস মন্তব্য করলেন দার ৷

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 27)

10 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • ganeshAugust 28, 2012 @ 06:08:54AM

    খুব ভালো ওয়েবসাইট ৷

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।