সাবেক এলটিটিই সদস্যরা নতুন কর্মসূচি থেকে উপকৃত হবে

সিভিল ডিফেন্স ফোর্সের মাধ্যমে জীবিকা অর্জনের জন্য প্রাক্তন যোদ্ধারা প্রশিক্ষণ ও চাকরি পাচ্ছে ৷

খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কলম্বো থেকে লিখেছেন প্রদীপ সেনেভিরত্ন

অগাস্ট 09, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 1 টি মন্তব্য

২০০৬ সালে কান্থাসামি সাথিকুমারান যখন তার হাই স্কুলের পরীক্ষা শেষ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলো তখন উত্তর প্রদেশে অবস্থিত তার নিজ জেলা মুল্লাইটিভু থেকে তাকে অপহরণ করা হয়, এবং তাকে লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই)-তে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়, সেই সময়ে এলটিটিই অগ্রসরমান সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে মরিয়া হয়ে লড়াই করছিল ৷

  • ১লা এপ্রিল ২০১০ তারিখে কলম্বোর প্রধান বাজারে শ্রীলংকার একটি পতাকার পাশ দিয়ে একজন শ্রমিক এক ঝুড়ি শাক-সবজি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ৷ সিভিল ডিফেন্স ফোর্স অঙ্গীভূতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে, লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই) এর পুনর্বাসিত প্রাক্তন ক্যাডারদেরকে কৃষিক্ষেত্রে কাজ করার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে ৷ [অ্যান্ড্রু ক্যাবালেরো-রেনল্ডস/রয়টার্স]

    ১লা এপ্রিল ২০১০ তারিখে কলম্বোর প্রধান বাজারে শ্রীলংকার একটি পতাকার পাশ দিয়ে একজন শ্রমিক এক ঝুড়ি শাক-সবজি বহন করে নিয়ে যাচ্ছে ৷ সিভিল ডিফেন্স ফোর্স অঙ্গীভূতকরণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে, লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম (এলটিটিই) এর পুনর্বাসিত প্রাক্তন ক্যাডারদেরকে কৃষিক্ষেত্রে কাজ করার জন্য বেছে নেয়া হয়েছে ৷ [অ্যান্ড্রু ক্যাবালেরো-রেনল্ডস/রয়টার্স]

সাথিকুমারান যথেষ্ট ভাগ্যবান ছিল কারণ সেই প্রচণ্ড আক্রমণের মধ্যেও সে প্রাণে বেঁচে গেছে ৷ ২০০৯ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর বাকি এলটিটিই ক্যাডারদের সাথে সে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আত্মসমর্পণ করে ৷ তাকে ভাভুনিয়ার একটি কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয় এবং ২০১০ সালে সে তার বাবা, মা ও ছোট দুই বোনের সাথে পুনরায় মিলিত হয়৷

তবে, চাকরি পাওয়া সহজ নয় ৷

“আমাদেরকে অবশ্যই যথাযথ কাজ পেতে হবে ৷ আমরা এলটিটিইতে যোগ দিতে চাইনি এবং আমাদের তারুণ্যে ভরপূর জীবনটা নষ্ট করতে চাইনি,” খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেছে সাথিকুমারান, এখন তার বয়স ২২ বছর ৷ “আমাদেরকে এই সংগঠনে যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছিল”।

শ্রীলংকান সরকার পুনর্বাসিত প্রাক্তন যোদ্ধাদেরকে দেশটির সিভিল ডিফেন্স ফোর্সে (সিডিএফ) যোগ দেয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে, যা তার অবস্থায় থাকা অনেকেই স্বাগত জানিয়েছে ৷ মূলত সন্ত্রাসীদের আক্রমণ থেকে গ্রামগুলোকে রক্ষা করার জন্য এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল, এটা এখন বিভিন্ন ধরনের শান্তিকালীন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করে থাকে, যেমন পুনর্গঠনমূলক প্রকল্প ও খামারের কাজ ৷

সাথিকুমারান তার পরিবারকে সহায়তা করার জন্য একটা উপায় খুঁজছিল, এবং সরকারের এই সিদ্ধান্ত তার জন্য একটা রাস্তা খুলে দিয়েছে ৷ “আমার কোনো চাকরি ছিল না এবং সিডিএফ-এ নিয়োগ পাওয়ার এই সুযোগ একটা আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে,” বলেছে সে ৷ “আশা করি এই সুযোগ ব্যবহার করে আমি আমার জীবনকে পুনর্গঠন করতে পারবো”।

খালি জায়গাগুলো পূরণ করা

জুলাই মাসের প্রথম দিকে এই ঘোষণা প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে, সম্ভাব্য প্রার্থীরা যোগ দেয়ার জন্য দলে দলে এগিয়ে আসছে ৷

সিডিএফ-এর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল আনন্দ পেইরিসের মতে, তার অফিস ১,৬৫০টির মত আবেদনপত্র পেয়েছে ৷ প্রাক্তন ক্যাডাররা যে খামারগুলোতে কাজ করবে সেগুলো তৈরির জন্য জমি নির্বাচন করতে ১৭ জুলাই তারিখে তিনি উত্তর প্রদেশ পরিদর্শন করেছেন ৷

“আমরা তাদেরকে মাসে ১৮,০০০ রুপি (১৩৭ ডলার) বেতন দেব,” খবরকে বলেছেন পেইরিস ৷ “চাকরিতে নিয়োগের কর্মসূচির প্রতি বেশ ভালো সাড়া পাওয়া গেছে ৷ তাদের জন্য আরো ভালো সুযোগ নিশ্চিত করতে আমরা এই পদক্ষেপ নিয়েছি”।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত, সিডিএফ-এর চাকরির জন্য ১,৬৫০ জন প্রাক্তন যোদ্ধাকে সাময়িকভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে আরো অনেককে নিয়োগ করা হবে ৷

পূনর্বাসন কর্মসূচীর কমিশনার জেনারেল মেজর জেনারেল চন্দনা রাজাগুরু খবর-কে জানান,কৃষি কার্যক্রম ও আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি, রাজমিস্ত্রির কাজের মত পেশাগুলোর জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দিতে বেসরকারি কোম্পানিগুলোও সিডিএফ-এর সাথে জোট বাঁধছে ৷

সিডিএফ-এ নতুন দায়িত্ব

সর্ববৃহৎ তামিল দল ‘তামিল ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স’ (টিএনএ) বলেছে প্রাক্তন যোদ্ধাদেরকে সাহায্য করার জন্য যে কোনো ব্যবস্থাকে তারা স্বাগত জানায় ৷

“তাদের জীবিকা অর্জনের জন্য তাদেরকে খামারের কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি নেই,” বলেছেন টিএনএ-এর সাংসদ এম. এ. সুমানথিরান, সেইসাথে তিনি আরো যোগ করেন যে, তার দল তাদেরকে পুলিশ বিভাগে নিয়োগের পক্ষে ছিল ৷

তিনি বলেন, তা নাহলে, “কেন এটাকে সিভিল ডিফেন্স ফোর্স বলা হচ্ছে?"

এদিকে জাফনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এন. নানাকুমারান বলেন, পুনরেত্রীকরণের উপর অবশ্যই উচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে ৷

“তামিল সম্প্রদায়ের একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে, আমি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানাই,” বলেছেন তিনি ৷ “তাদেরকে সমাজে একটা স্থান দেয়াটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”।

পূর্বাঞ্চলের একজন মুসলমান ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খলিল, ৫৪, বলেন প্রাক্তন যোদ্ধাদের অতীতের কর্মকাণ্ডের জন্য সমাজ তার দরজা বন্ধ করে দেয়া উচিত নয় ৷

“পূর্বাঞ্চলে আমরা এলটিটিই-এর হুমকির মধ্যে ছিলাম ৷ সেই যুগ এখন শেষ হয়ে গেছে,” বলেছেন খলিল ৷ “আমাদের উচিত পুনর্মিলনের মাধ্যমে ভবিষ্যত গড়ে তোলা৷ তাদেরকে সিডিএফ-এ নিয়োগ দেয়াটা বেশ ভালো হয়েছে”।

“তারপরেও, আমি ভাবছি তাদেরকে নিরাপত্তা সম্পর্কিত কোনো চাকরি দেয়াটা উচিত হবে কিনা ৷ যদি তাদেরকে কেবলমাত্র খামারের কাজে ব্যবহার করা হয়, তাহলে ঠিক আছে”।

সিঙ্গাপুরের একজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিশেষজ্ঞ রোহান গুনারত্ন বলেন, পুনর্বাসিত ক্যাডারদের দেখাশোনা করাটা সরকার ও বেসরকারি খাতের জন্য অপরিহার্য ৷

গুনারত্ন খবরকে বলেন, “দ্বিতীয় একটি জীবন শুরু করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহায়তা না পেলে, তারা অপরাধজগতের শিকারে পরিণত হতে পারে ৷ সিডিএফ-এ যোগ দেয়ার মাধ্যমে, তারা উৎপাদনশীল নাগরিকে পরিণত হতে পারবে”।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 12)

1 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • liraAugust 12, 2012 @ 10:08:58AM

    এটা ভালো

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।