উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মুসলমানরা “বাংলাদেশি” এবং তারা এই দেশের নাগরিক নয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত এই বানোয়াট দাবির প্রতি ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিজীবী চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছেন ৷
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এর ভাষণ এই অশান্ত পরিস্থিতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ৷ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যে, বোদো উপজাতি ও বাংলা-ভাষী মুসলমানদের মধ্যে জাতিগত দাঙ্গায় কমপক্ষে ৮০ জন মারা গেছে এবং ৪০০,০০০ এরও বেশি মানুষ শরণার্থী শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে ৷
এই উত্তেজনা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে৷ কর্ণাটক ও দক্ষিণের অন্যান্য এলাকাগুলোতে, হুমকিপূর্ণ টেক্সট মেসেজ এবং প্রতিশোধমূলক হামলার গুজব আসাম থেকে আসা মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে, যার ফলে তারা তাদের নিজ রাজ্যে ফিরে যাচ্ছে৷ ১১ অগাস্ট তারিখে আসামে দাঙ্গার শিকার ব্যক্তিদের প্রতি সংহতি প্রকাশকারী একটি সমাবেশ উচ্ছৃঙ্খল হয়ে উঠলে মুম্বাইয়ে দুই ব্যক্তি মারা যায় ৷
১৫ অগাস্ট তারিখে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে সিং বলেন যে শান্তি ফিরিয়ে আনাই হলো সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার ৷ সেইসাথে তিনি উল্লেখ করেন যে তার প্রশাসন “মূল কারণ” খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে ৷
তিনি বলেন, “আমি কথা দিচ্ছি যে আমাদের সরকার এই সহিংসতার কারণগুলো বোঝার জন্য সর্বপ্রকার চেষ্টা করবে এবং দেশের অন্য কোনো জায়গায় যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য রাজ্য সরকারগুলোর সাথে জোরালোভাবে কাজ করবে”।
দীর্ঘ-দিনের সংস্কারের প্রতি চ্যালেঞ্জ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে সিং-এর বিবৃতি ভারতে ব্যাপকভাবে প্রচলিত একটি মনোভাব থেকে উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি নির্দেশ করে ৷ “অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীরা” আসামে উত্তজনার মূল কারণ, এই বানোয়াট দাবির বিরুদ্ধে কিছুদিন আগে পর্যন্ত খুব কম লোকই প্রশ্ন তুলেছিল ৷
“তথাকথিত বাংলাদেশিদেরকে আসাম থেকে বিতাড়ন ও তাদের ভোটাধিকার হরণ করার জন্য ডানপন্থী বিরোধীদের উগ্র দাবির বিরুদ্ধে তার মন্তব্য মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে, ডানপন্থীরা তাদেরকে এই রাজ্যে ‘জাতিগত আগ্রাসন’ পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত করে আসছে,” বলেছেন ইস্টার্ণ ক্রিসেন্ট ম্যাগাজিনের একজন বিশ্লেষক, বোরহানউদ্দীন ওয়াসি ৷
১৯৭০ এর দশকের শেষভাগ থেকে, এই রাজ্যের বাংলা-ভাষী মুসলমানদের ভোটাধিকার হরণ এবং তাদেরকে বিতাড়নের জন্য অব্যাহতভাবে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হচ্ছে ৷ আসামের রাজনৈতিক দলগুলো এবং ডানপন্থী হিন্দু ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) দাবি করে যে তারা বাংলাদেশি, ভারতীয় নয় ৷
১৯৮৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটির কাছকাছি নেলিতে উগ্র আদিবাসীরা ৩,০০০ এরও বেশি বাংলা-ভাষী মুসলমান গ্রামবাসীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ৷ এটি ছিল অশান্ত একটি দেশে এ যাবতকালের মধ্যে সংঘটিত জাতিগত সহিংসতার সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঘটনাগুলোর একটি ৷
আসামে একটি মানবাধিকার দল পরিচালনাকারী মঈনুল হক খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেনঃ “আমরা প্রতিদিন নিগৃহীত হচ্ছি; আমাদের ছেলেমেয়েরা প্রতিদিন বাংলাদেশি হিসেবে বিদ্রূপ শুনতে শুনতে বড় হচ্ছে ৷ আমাদেরকে একঘরে করার জন্য পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে” ৷
কিন্তু এখন ক্রমবর্ধমান সংখ্যক রাজনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন ৷
উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিষয়ের উপর একজন লেখক কাশিফ-উল-হুদা খবরকে বলেন, “বাস্তবভিত্তিক প্রমাণের মাধ্যমে উদঘাটিত হয়েছে যে বাংলা-ভাষী মুসলমানরা ভারত ভাগ হওয়ার আগেই (১৯৪৭) বোদোদের মাতৃভূমিতে বসতি গড়ে তোলে ৷ যা তাদেরকে হিন্দু, আসামের মুসলমান ও বোদো উপজাতিদের মত সমান ভারতীয়তে পরিণত করে” ৷
সমাজবিজ্ঞানী বানাজিত হুসেইন দ্য হিন্দুতে লিখেছেন, এটা সাধারণ কোনো ভুল-বোঝাবুঝির বিষয় নয়, বরং এই মিথ্যাটা পরিকল্পিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে ৷
তিনি লিখেছেন, “এটা সাধারণভাবে ধরে নেওয়ার কোনো উপায় নেই যে বোদো নেতৃত্ব এবং আসাম সমাজের মূল ধারা নির্দোষভাবে ভুল করে মনে করছে যে এই অঞ্চলে বসবাসকারী সব মুসলমান বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী৷ বরং এটা একটা সচেতন ‘ভুল’ যা সাম্প্রদায়িক অসন্তোষের সাথে যুক্ত” ৷
হুসেইন লিখেছেন, “এই অঞ্চলে ‘অবৈধ’ অভিবাসীরা স্রোতের মত আসছে বলে যে বাগাড়ম্বর চলছে তা এই হামলাগুলোতে ইন্ধন যোগাচ্ছে এবং এই এলাকায় মুসলমানদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমানভাবে বাড়ছে বলে যে অমূলক সন্দেহ রয়েছে তা এতে সমর্থন যোগাচ্ছে, এবং সব মুসলমানকেই ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে মনে করা হচ্ছে” ৷
ধারণার উন্নতি হবে বলে মুসলমানরা আশাবাদী
উদ্বিগ্ন মুসলমান সম্প্রদায়ের জন্য, সিং এর মন্তব্য এই সঙ্কেত দিচ্ছে যে সরকার এই সঙ্কটের দিকে আরো মনোযোগ দেয়ার জন্য প্রস্তুত ৷
আসামের প্রধান বিরোধী দল, আসাম ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এইউডিএফ) নেতা, মাওলানা বদরুদ্দীন আজমল খবরকে বলেন, “৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে আসামের মুসলমানদেরকে ভুল করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে ৷ যদি মনমোহন সিং এর সরকার এটা স্বীকার করতে ইচ্ছুক হয়, তাহলে আমরা খুশিমনে সহযোগিতা করবো” ৷
খবরের সাথে কথা বলার সময় ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির একজন নেতা বলেন, তারা ঘৃণা ও সহিংসতার অবসান ঘটানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ৷
কংগ্রেস নেতা দেবেন্দ্র দ্বিভেদী খবরকে বলেন, “আমরা এই বিষয়ে সচেতন যে আসামের দাঙ্গা সামাজিক ভারসাম্যকে ব্যাপকভাবে নষ্ট করেছে ৷ ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং স্থায়ীভাবে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য আমরা সর্বপ্রকার চেষ্টা করবো” ৷
মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে
পাঠকের মন্তব্য
lehmanApril 21, 2013 @ 11:04:28AM
আতঙ্কজনক
salim talukdarSeptember 25, 2012 @ 06:09:09AM
একটি সত্য প্রতিবেদন ৷ আসলে বাংলাভাষী জনগণ কখনোই তাদের পূর্বপুরুষদের অঞ্চল - বাংলা ছেড়ে বাইরে কোথাও অভিবাসন করেনি এবং তারা যুগ যুগ ধরে বাংলায় এবং এর আশেপাশে বসবাস করেছে ৷ আমাদের আসামের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বপুরুষ থাইল্যান্ড থেকে অভিবাসন করে এসেছিল এবং তারা এত দীর্ঘ সময় ধরে আসামে বসবাস করেছে যে এখন তারা টায় আহম নামে পরিচিত- যার অর্থ হলো এই অঞ্চলের সত্যিকারের আদিবাসী ৷
raju aliSeptember 19, 2012 @ 11:09:51PM
আমাদের কেবল শান্তি দরকার........ সবার জন্য..........
RAJA FOR RAHMANSeptember 18, 2012 @ 07:09:29AM
আমরা মানুষ .............. আমরা ন্যায়বিচার চাই..............................
AK NATHSeptember 15, 2012 @ 06:09:28AM
আমাদের উচিত আমাদের মনকে বড় করা এবং আমরা কয়েক শতাব্দী ধরে যে ভাবে বসবাস করে আসছি সেভাবে বসবাস করা, কারণ আমরা সবাই জানি যে দারিদ্র্য, অশিক্ষা এবং অনুন্নতিই এই সব শয়তানির মূল কারণ ৷ এই সব খারাপ জিনিসগুলোকে সমূলে উৎপাটন করার জন্য এবং আসামের সমাজকে একটি গৌরবোজ্জ্বল সমাজে পরিণত করার জন্য আমাদের সবাইকে অবশ্যই একত্রিত হতে হবে যাতে আমরা একটি বৈচিত্র্যময় কিন্তু অগ্রসরমান সমাজ পেতে পারি ৷ যদি আমাদের সবাই এটাতে বিশ্বাস করে এবং নিজেরা অঙ্গীকার করে তাহলে ঈশ্বরও আমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং সেই দিন বেশি দূরে থাকবে না যখন আমরা একটা অগ্রসরমান ও অভঙ্গুর সমাজে পরিণত হবো..... ‘আমরা অভঙ্গুর’
luna singSeptember 13, 2012 @ 02:09:30AM
আমরা শান্তি চাই ৷
علی محمدSeptember 12, 2012 @ 10:09:14AM
যদি কোনো বাংলাদেশি মুসলমান অন্য কোনো মুসলমান ভাইয়ের দুঃখ-কষ্টের কারণ হয় তাহলে তার দায়িত্ব হলো ভারত ছেড়ে চলে যাওয়া ৷ যদি কোনো বাংলাদেশি না থাকে তাহলে ভারত সরকারের দায়িত্ব হলো তার নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করা ৷ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে, কাউকে হত্যা করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না কিন্তু আমাদেরকে শিক্ষার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য একটা উপায় খুঁজে বের করতে হবে ৷ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করাটাও সরকারের দায়িত্ব৷ ঐক্যের ব্যাপারে আমি কী বলতে পারি, প্রতিটি ভাষায় বার বার করে বলা হয়েছে এবং প্রতিটি কান শুনেছে যে হিন্দু, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান সবাই একসাথে.... এটা ভারতীয় পথ, অন্য কারো নয় ৷
nitya peguSeptember 12, 2012 @ 08:09:54AM
হিন্দু ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সংঘাত হচ্ছে না ৷ এটা হচ্ছে অবৈধ বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে ৷ তারা বিদেশি এবং জনগণ তাদেরকে সমর্থন দেয়াটা উচিত হবে না, বিশেষ করে ভারতীয় মুসলমানেরা৷
neha bhartiSeptember 9, 2012 @ 12:09:03PM
আমরা ঐক্যবদ্ধ ৷ আমি বলতে চাই যে দয়া করে হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সহিংসতা বন্ধ করুন ৷ আসামের মূল সমস্যা হলো কেউই অন্য কারো সমস্যা সম্পর্কে বুঝতে চায় না ৷ আমাদের দেশের সরকার অত্যন্ত খারাপ ৷ প্রথমত তাদের মধ্যে পরিবর্তন দরকার, তাদের আরো সিরিয়াস হওয়া উচিত এবং গরীবদেরকে সাহায্য করা উচিত, মুসলমানরা আমাদের দেশেরই অংশ ৷ সহিংসতা বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করুন, এবং সব মানুষের সাথে ভাই ও বোনের মত আচরণ করুন, ধন্যবাদ, আমাদের দেশকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করুন ৷
sonam mandilwarSeptember 3, 2012 @ 06:09:35AM
এটা আসলেই খুব খারাপ, আমরা মানুষ, এখানে হিন্দু বা মুসলমান বলে কোনো কিছু থাকা উচিত নয়........... দয়া করে এরকম করবেন না.........
sonam mandilwarSeptember 3, 2012 @ 06:09:34AM
এটা আসলেই খুব খারাপ, আমরা মানুষ, এখানে হিন্দু বা মুসলমান বলে কোনো কিছু থাকা উচিত নয়........... দয়া করে এরকম করবেন না.........
sonam mandilwarSeptember 3, 2012 @ 06:09:34AM
এটা আসলেই খুব খারাপ, আমরা মানুষ, এখানে হিন্দু বা মুসলমান বলে কোনো কিছু থাকা উচিত নয়........... দয়া করে এরকম করবেন না.........
wasiq qureshiSeptember 2, 2012 @ 04:09:39AM
যে সব লোকজন মুসলমানদের বিরুদ্ধে কথা বলছে, যা বেশিরভাগ মানুষই সব সময় করে থাকে, তারা প্রকৃত সমস্যা সম্পর্কে বোঝা দরকার ৷ সারা বিশ্বের মুসলমানরা মানুষ এবং তাদের ছেলেমেয়েরা আপনাদের ছেলেমেয়েদের মতই শিশু ৷ আসামের দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ করা না হলে তারাও যন্ত্রণা পায়, তারাও আঘাত পায়, এটা ভারত সরকারের সবচেয়ে বড় সমস্যা, তার কেবল দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছে ৷
nidhiAugust 29, 2012 @ 06:08:55AM
মুসলমানরা তাদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা উচিত ৷ এটা তাদের ও সবার জন্য একটা বড় সমস্যা ৷
GAYATREE SAIKIAAugust 29, 2012 @ 04:08:40AM
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন হলো যথাযথ রাজনৈতিক শিক্ষা এবং আসামের সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতাবোধ ৷
udayAugust 29, 2012 @ 03:08:12AM
আমরা নিজেরাই নকশালদের স্রষ্টা ৷ স্বাধীনতার ৬৫ বছর পরেও যদি আমরা বুঝতে না পারি যে কারা আমাদের ভাই এবং আমাদের অঞ্চলের জন্য এখনো যুদ্ধ করতে হয় তাহলে কীভাবে আমরা নিজেদেরকে ভারতীয় বলতে পারি? এখন আবেগকে সমর্থন করার সময় নয়, চলুন সবাই মিলে বন্ধু হওয়া যাক, চলুন যে কোনো জাত বা ধর্মের নামে নিজেদেরকে পরিচয় না দিয়ে নিজেদেরকে ভারতীয় বলে পরিচয় দিই ৷ আমাদের তরুণদের জন্য রাজনীতিকে একপাশে রেখে ভিন্নভাবে চিন্তা-ভাবনা করার সময় এসেছে ৷ আমাদের বাবা-মায়েরা ও বড়রা কী ভাবছে তা নিয়ে চিন্তা করার দরকার নেই, আমাদের অধিকার অর্জন করার জন্য আমরাই যথেষ্ট ৷ ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন ৷ আমি প্রার্থনা করি সবাই হেসে অন্যদের হাসির জবাবে দিক ৷
S. ChowdhuryAugust 28, 2012 @ 04:08:46PM
মি. কে. সেনসোয়াকে বলছিঃ আপনি লিখেছেন, “অবৈধ অভিবাসনের বিষয়টি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আর কোনো যুক্তিতর্কের দরকার নেই ৷” তাহলে, আপনি কি মনে করেন যে ১৯২৪ সালে পূর্ব বাংলা থেকে আসামে অভিবাসন করাটা অবৈধ ছিল? সেই সময়ে পূর্ব বাংলা ও আসাম উভয়ই ভারতের অংশ ছিল ৷ তাহলে, আপনি কি মনে করেন যে আপনি এখন, ধরুন, কোলকাতা থেকে দিল্লিতে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করলে সেটা অবৈধ অভিবাসন হবে? ব্রিটিশ লেখক এটা লিখেছিলেন ১৯২৪ সালে, তিনি ১৯৪৭ সালের পরে এটা লেখেননি ৷ সুতরাং, এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে এই সব লোকজন ১৯৩০ এর দশকে সেখানে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসতি তৈরি করেছিল, সেটা ছিল অবিভক্ত ভারতের যুগ ৷ আপনি কোন যুক্তিতে এটাকে “অবৈধ অভিবাসন” বলছেন?
PBAugust 28, 2012 @ 12:08:40PM
বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী বৈচিত্র্যের ক্ষেত্রে আমাদের আদর্শের ঐক্য হারিয়ে গেছে এবং আমরা নিজেদের মধ্যে গুটিয়ে গেছি ৷ আমাদের স্বীকার করা উচিত যে মুসলমানের চেয়েও বড় কথা হলো তারা মানুষ ৷ তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে ৷
noushadaliAugust 25, 2012 @ 05:08:35AM
ভারত সরকার আসামে সহিংসতা প্রতিরোধ করতে পারছে না কেন?
sagarAugust 23, 2012 @ 11:08:35PM
এই সহিংসতা বন্ধ করা হোক
harunAugust 23, 2012 @ 01:08:56PM
আমি সারা বিশ্বে মুসলমানদেরকে হয়রানি করা নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেখানেই মুসলমানরা সংখ্যালঘু সেখানে মুসলমানরা বিভিন্ন ধরনের সমাজিক ও জাতিগত সমস্যা এবং রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার ৷ মুসলমানরা ছাড়া, বাকি সব ধর্মের লোকেরা সব সময় প্রতিটি পদক্ষেপেই মুসলমানদেরকে অপমান করার চেষ্টা করে ৷ সম্প্রতি বার্মিজ বৌদ্ধরা অনেক মুসলমানকে হত্যা করেছে,শুধু তাই নয় তারা মুসলমানদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে ৷ জাতিসংঘ মুসলমানদের সমস্যা সম্পর্কে নীরব,আমি জাতিসংঘের কার্যক্রমকে ঘৃণা করি ৷
K.SensowaAugust 23, 2012 @ 12:08:18PM
উপরের নিবন্ধে উদয়ন নাম্বুদিরি যা বলেছেন তা হলো রাজনীতিবিদরা গত চার দশক ধরে যা বলেছেন তার পুনরাবৃত্তি ৷ ১৯২৪ সালে ভারতীয় চা সংগঠন কর্তৃক কোলকাতা থেকে প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েশন জার্নালে একজন ব্রিটিশ লেখক লিখেছিলেন যে, সেই সময়ে পূর্ব বাংলা থেকে মানুষ যেভাবে অভিবাসন করছিল তার ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আসামের জনসংখ্যাতাত্ত্বিক অবস্থা বদলে যাবে ৷ সেই ব্রিটিশ লেখক ছিলেন একজন সমাজবিজ্ঞানী, তিনি রাজনীতিবিদ ছিলেন না ৷ অভিবাসীদের কাছ থেকে তার কোনো ভোটের দরকার ছিল না ৷ তার দূরদর্শিতার জন্য আজ আমরা সেই লেখককে অভিবাদন জানাই ৷ অবৈধ অভিবাসন সম্পর্কে আর কোনো যুক্তিতর্কের দরকার নেই ৷ বদরুদ্দীন সাহেব তার নিজের এজেণ্ডা নিয়ে নতুন করে ইতিহাস লিখতে পারেন, আমাদের কিছুই বলার নেই ৷
vaishnavi kadamAugust 21, 2012 @ 11:08:30AM
সম্মানিত স্যার, (প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং) আমি দুঃখের সাথে বলছি কিন্তু প্রতিশোধমূলক হামলার গুজব সম্পর্কে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়... আমাদের এখন কোনো ধরনের প্রতিশ্রুতি বা বক্তৃতার দরকার নেই, আমাদের কেবল দরকার একটি সফল কাজ যাতে প্রত্যেক ভারতীয় বা বিদেশি আমার দেশে নিরাপদে চলাচল করতে পারে... ভারতের যে কোনো জায়গায় চলাচল করাটা খুব বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা গ্রামেই হোক আর শহরেই হোক৷ আমি আপনাকে আদেশ দিতে পারি না স্যার কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনাগুলো আপনাকে জানাতে পারি... প্রতিটি রাজ্যের একজন নেতাকে নিয়ে একটি দল তৈরি করুন, সেই নেতা অবশ্যই কয়েকজন ব্যক্তিকে নিয়ে একটি দল তৈরি করবেন এবং প্রতিটি শহর বা গ্রামের প্রত্যেক ব্যক্তির কাছে অবশ্যই যোগাযোগ ও পরিবহন জোন এবং সব সরকারি গাড়ি, ট্রেন, আকাশপথ, ইত্যাদি সবকিছুর সবগুলো রেকর্ড থাকতে হবে৷ স্যার, বিনীতভাবে অনুরোধ করছি এখানে যাতে কোনো রাজনীতি না থাকে... যাতে সমান অধিকার ও সুযোগ থাকে৷ আমার দেশকে ভালোবাসি ও দেশের সেবা করতে চাই...
baruahAugust 21, 2012 @ 10:08:48AM
ভারতীয়রা ধর্মের নামে বিভক্ত ৷ জাত, সম্প্রদায়, ধর্ম ও ভাষা সব ক্ষেত্রেই যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি নতুন গবেষণার অধ্যায় দরকার৷ দক্ষিণ ভারতের লোকজন উত্তর ভারতের লোকজনকে অপছন্দ করে,জাতীয় ভাষায় কথা বলে না,তেলেঙ্গা,ডিএমকে-এর মত জাত,ভাষা অঞ্চল ইত্যাদি নিয়ে রাজনীতি করে৷ অন্যদের সমালোচনা করার আগে, আপনারা কি ভারতের কোনো অংশের আর্থ-সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন? ভারতের কোথায় জাতিগত সংঘাত চলছে না? বুদ্ধিজীবীরা ভারতীয়দেরকে ভাইয়ের মত দেখার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো নিয়ে গবেষণা করা ও এগুলোর সমাধান করা উচিত৷
Md. Niloy KhanAugust 20, 2012 @ 09:08:28AM
moslmander k tader odikar theke bonchito korle ata hobe varot sorkarer akta moha onnay. Asamer sokol moslmander k tader prappo odikar firiye dite hobe. Jatigoto sohingsota rode proyojonio bebosta grohon korte hobe.