নেপালঃ আদিবাসী জনগণ শক্তিশালী কন্ঠস্বর চায়

সক্রিয় কর্মীরা আশা করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করতে মূল ধারার রাজনৈতিক শক্তির একটি বিকল্প হিসাবে তাদের নিজেদের দল গঠন সহায়তা করবে।

কাঠমুন্ডু থেকে খবর সাউথ এশিয়ার জন্য লিখেছেন সুরাত গিরি

অগাস্ট 22, 2012
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 3 টি মন্তব্য

৩৮ বছর বয়স্ক ইয়োগরাজ লিম্বুর জন্য ৯ই আগস্ট এক বিশেষ দিন, কাজকর্ম থেকে বিরত থাকার ভাল একটি দিন।

  • বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেপালীরা ৯ম  বিশ্ব আদিবাসী  দিবসের শোভাযাত্রায় একত্রিত হয়। দেশের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজকর্মীরা বলেন যে তারা সেপ্টেম্বরে সক্রিয়ভাবে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছে। [সুরাত গিরি/ খবর]

    বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর নেপালীরা ৯ম বিশ্ব আদিবাসী দিবসের শোভাযাত্রায় একত্রিত হয়। দেশের আদিবাসীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজকর্মীরা বলেন যে তারা সেপ্টেম্বরে সক্রিয়ভাবে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে যাচ্ছে। [সুরাত গিরি/ খবর]

১৮ বছর আগে ইউ এন কর্তৃক ঘোষিত বিশ্ব আদিবাসী মানুষের দিবসের তারিখটি পালন করার জন্য, লিম্বু কাঠমান্ডুতে নেপাল ফেডারেশন অব ইনডিজিনাস ন্যাশনালিটিজ আয়োজিত শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে।

“এটি আমাদের জন্য এক বিশেষ দিন”, তিনি খবর সাউথ এশিয়াকে বলেন। “এটি আমাদের সংস্কৃতি এবং আমাদের জনগণকে তুলে ধরার একটি দিন। আমরা [আদিবাসী জনগণ] আমাদের প্রাপ্য স্বীকৃতি এবং অধিকার এখনো পাইনি”।

৩৬ বছরের বিনো লামাও স্বীকার করেন। “আদিবাসী জনগণ ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতা প্রাপ্তি এবং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে”, তিনি বলেন।

এবছর, বাৎসরিক এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয় পশ্চাদপদতার বিরুদ্ধে নতুন এক গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনার মাইলফলক রূপে। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলোর নেতারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি তুলে ধরার প্রশ্নে তারা আর চলমান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর উপর ভরসা করতে পারছে না, আর তাই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাদের নিজেদের একটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে।

এ ভাবনা মূলতঃ উঠে আসে জুলাইয়ের একটি সমাবেশ থেকে, যেখানে আদিবাসী অধিকার প্রশ্নে ১২০০ জনেরও বেশী প্রচারকারী অংশগ্রহণ করেন।

“ রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচলিত নেতা কেন্দ্রিক, উপর-নীচ পদ্ধতি কার্যকর হতে ব্যর্থ হয়েছে”, খবরকে বলেন সক্রিয় কর্মী কৃষ্ণ ভট্টাচান। “এখন পর্যন্ত, যে প্রবনতাচলে আসছে, তা হল কিছু সংখ্যক ক্ষমতাবান ব্যক্তি একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে এবং তারপর তারা তৃণমূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। আমরা এ প্রবনতার বিপরীত দিক থেকে, তৃণমূল থেকে শুরু করতে চাই”।

নেপাল এথনিক ফেডারেশন অব ইনডিজিনাস ন্যাশনালিটিজ দ্বারা গঠিত একটি টাস্কফোর্সের একজন সদস্য ভট্টচান বলেন, নতুন দল আনুষ্ঠানিকভাবে সেপ্টেম্বরে সক্রিয় হবে।

“ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর একটি রাজনৈতিক দল আদিবাসী জনগণের জন্য আবশ্যক”, লামা বলেন। “এটি আমাদের কথা শোনানোর একমাত্র পথ”।

কেউ কেউ নতুন সৃষ্ট এ প্রক্রিয়া নিয়ে ভীত যে তা নেপালের স্থিতিশীলতা আনবেনা। ৪৪ বছরের মুদী দোকানদার রমেশ অধিকারী খবরকে বলেন, “আমি মনে করি আদিবাসীদের উল্লেখিত বিষয়াবলী গুরুত্বপূর্ণ কোন কোন ক্ষেত্রে, কিন্তু আমি ভীত যে দেশ জাতিগত সংঘাতের দিকে যাচ্ছে”।

“আমাদের এর মধ্যেই অতি বেশী সংখ্যক রাজনৈতিক দল আছে এবং ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর দল সাধারণভাবে নেপালীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবেনা”।

কিন্তু ভট্টচান বলেন, সাধারন মানুষদের শংকিত হওয়ার কিছু নাই, যেহেতু নতুন দল গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, ক্ষতিগ্রস্ত করবেনা। এর লক্ষ্য, তিনি বলেন, নির্যাতিত এবং অবহেলিত গোষ্ঠীর সবাইকে যুক্ত করা।

“আমাদের প্রাথমিক চিন্তা হল দেশে কিভাবে বিকল্প একটি রাজনৈতিক শক্তি দাঁড় করানো যায় যখন গতানুগতিক রাজনৈতিক দলগুলো কার্যকর ভূমিকা গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে”, ভট্টচান বলেন।

আদিবাসী জনগণের অধিকার বহু বছর যাবত একটি কন্টকময় বিষয় ছিল। বর্তমানের প্রত্যাশিত সংসদ অধিবেশনে(সি এ) একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে তাদের মূল দাবী, পরিচয় বহনকারীযুক্তরাষ্ট্রীয় .ধারনা উপস্থাপন করা। রাজনৈতিক দল জাতিগত পরিচয়ের সাথে সাথে প্রদেশ গঠনের দাবী করে যা তাদেরকে প্রদেশে জনসংখ্যার ভিত্তিতে সুবিধা দিবে।

কিন্তু রাষ্ট্র পুনর্গঠন কমিশন(এস আর সি), যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রীয় একটি মডেল নিয়ে আসার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তারা একটি ঐক্যমত্যে পৌঁছুতে ব্যর্থ হয়েছে।

সংখ্যা গরিষ্ঠের প্রতিবেদন প্রস্তাব করেছে ১১ রাজ্যভিত্তিক একক পরিচয়। সংখ্যা লঘিষ্ঠ প্রতিবেদন প্রস্তাব করেছে জাতিসত্বা নির্ভর হবেনা ছয়টি রাজ্যের।

যদিও, একক পরিচয় ভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সি এ সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের জোটের অংশটি বিষয়টি নিয়ে একটি পূর্ণ ভোটে পৌঁছানোর আগেই বিলুপ্ত হয়ে যায়।

আপনি এই আর্টিকেল সম্পর্কে কী ভাবছেন? (সর্বোচ্চ ভোটঃ 4)

0 অপছন্দ

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • shanta pahariJanuary 28, 2013 @ 07:01:04AM

    পাহাড়ী হারু লায়েকে ধন্যবাদ

  • M.L. FrancisAugust 22, 2012 @ 12:08:34PM

    আপনার মূল্যবান জার্ণালে প্রকাশিত ভালো খবরগুলো প্রশংসনীয় ৷ আমি আশা করি আগামী মাস ও বছরগুলোতে এটা অব্যাহত থাকবে ৷

  • Dirgha Raj PrasaiAugust 21, 2012 @ 10:08:48PM

    এটা একটা দুঃখের বিষয় যে অর্থ-লোলুপ তথাকথিত প্রতিভাবান মাথাগুলো এই ধার্মিক দেশটার বদনাম করতে যাচ্ছে৷ খ্রিস্টান মিশনগুলো কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ, অপরাধী, প্রাক্তন মন্ত্রী নরহরি আচারিয়া, অধ্যাপক কৃষ্ণ হাছেথু (সবচেয়ে সন্দেহজনক ব্যক্তি), সুপরিচিত সাম্প্রদায়িক-কৃষ্ণা ভট্টাচাম, জাতীয়তা-বিরোধী অধ্যাপক কৃষ্ণা খানাল, ভারতপন্থী অধ্যাপক লোকরাজ বড়াল, হরি শর্মা, বিষ্ণু সাপকটা, সাম্প্রদায়িক ব্যক্তি আংকাজি শেরপা এর মত লোকদের বিলাসবহুল জীবন-যাপনকে সহায়তা করছে৷ সুশীল সমাজের কিছু কিছু কর্মীও আছে৷ সাইয়াম শ্রেষ্ঠা, কেবি ভাট্টাকেন, পদ্মরত্ন তুলাধর, গৌরি প্রধান (পদ্মরত্ন তুলাধরের শ্যালক), অশোক রায়, আংকাজি শেরপা এবং তার দল এবং এই ধরনের অপরাধীরা এবং কিছু প্রাক্তন মন্ত্রী ডলার পেয়ে থাকে৷ এটা বোঝা যাচ্ছে যে এই বিষয়গুলোতে যে সব দেশ টাকা ঢালছে সেগুলো হলো ব্রিটেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ভারত৷ ফেডারেল পদ্ধতির বিষয়টা দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে৷ ফেডারেল পদ্ধতির মধ্যে ভাঙনের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে৷ আমাদের চোখের সামনেই এই দেশ খণ্ড-বিখণ্ড হতে যাচ্ছে ৷ কেন্দ্রকে দুর্বল করা এবং বিশেষ করে জনজাতিগুলোর কাছ থেকে সমর্থন পাওয়ার জন্য মাওবাদীরা জাতিগত বৈষম্যকে বাড়িয়ে তুলেছে৷ জাতির উপর নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে কোনো চিন্তা না করেই তারা আমাদের সামাজিক সমস্যাগুলোর প্রতিটি ক্ষেত্রের উপর চাপ তৈরি করেছে৷ নেপালের মূর্খ সন্দেহজনক প্রধানমন্ত্রী - বাবুরাম ভট্টরাই খ্রিস্টানদের একজন সমর্থক এবং তিনি নেপালকে ভাঙার জন্য আদিবাসী গ্রুপগুলোকে তুলে আনছেন৷ এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকদেরকে শাস্তি না দিলে, নেপাল নিরাপদ হবে না৷ ঠিক? দীর্ঘ রাজ প্রাসাই, কাঠমান্ডু

ভোট

দিল্লীতে ছাত্রী গণধর্ষণে সৃষ্ট গণবিক্ষোভের ফলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংস অপরাধের শাস্তি স্বরূপ ভারত সরকার সম্প্রতি যেসব আইনী উদ্যোগ নিয়েছে তা কি অপরাধ মোকাবেলায় খুব বেশি কিছু করতে পারবে?

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

এখানে, শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী রিশাদ বাথিউদিন (মাঝে) এবং ঐতিহ্যবাহী এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন মন্ত্রী ডগলাস দেভেন্দ্র (ডানে) ১৮ই জানুয়ারি, ২০১৩ সালের জাফনা আন্তর্জাতিক বানিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন, যার উদ্দেশ্য হল, অতীতের এই যুদ্ধ ক্ষেত্র এলাকার অর্থনীতির পুনর্জন্মে আরো বেশি বেশি শক্তি দেয়া।[ছবিঃ নিলুপুল পেরেরা/খবর]

নতুন অবকাঠামো প্রকল্প শ্রীলংকার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে

২০০৯ সালের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, শ্রীলংকা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র দেশের অর্থনীতি এবং অবকাঠামো মেরামত করার জন্য প্রচুর পরিমাণে বিনিয়োগ করছে। ২০১১ এবং ২০১২ সালে, শ্রীলংকা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।