কার্টুনের বিরুদ্ধে ফতোয়া সমালোচনার জন্ম দিয়েছে

একটি বির্তকিত ফতোয়া দেয়ার মাধ্যমে এই মাদ্রাসাটি আবারো খবরে এসেছে, এবারের ফতোয়াটি এসেছে টিভির কার্টুন ছবি “বোরকা অ্যাভেঞ্জার”-এর কারণে।

কলকাতা থেকে খবর দক্ষিণ এশিয়ার জন্য লিখেছেন আখতার আলী

সেপ্টেম্বর 14, 2013
A বড় | ছোট | রিসেট <span class="translation_missing">bn, articles, print</span> 3 টি মন্তব্য

দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসা সম্প্রতি অ্যানিমেটেড কার্টুনগুলোর বিরুদ্ধে একটি ফতোয়া জারি করেছে, সেখান থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে এগুলো দেখা মুসলমান শিশুদের জন্য “অবৈধ”৷

  • কার্টুনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া দেয়া সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অ্যানিমেটেড ফিল্মগুলো শিশুদেরকে অনেক বিষয় শেখাতে পারে এবং তাদের যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। [আখতার আলী/খবর]

    কার্টুনের বিরুদ্ধে সম্প্রতি দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়া দেয়া সত্ত্বেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে অ্যানিমেটেড ফিল্মগুলো শিশুদেরকে অনেক বিষয় শেখাতে পারে এবং তাদের যোগাযোগের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। [আখতার আলী/খবর]

পাকিস্তান থেকে আসা একটি প্রশ্নের জবাবে দেয়া এই অধ্যাদেশ বেশ কয়েকজন মুসলমান আলেম ও সমাজ নেতার কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছে।

একটি নতুন টিভি কার্টুন, বোরকা অ্যাভেঞ্জার, পাকিস্তানি টিভি দর্শকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এটিতে মৃদু-স্বভাবের শিক্ষক জিয়ার অ্যাডভেঞ্চারগুলো দেখানো হয়, যিনি “ন্যায়বিচার, শান্তি ও সবার জন্য শিক্ষা” নিশ্চিত করার জন্য লড়াই করে থাকেন। এই অনুষ্ঠানটির অন্তর্নিহিত বার্তা হলো তরবারির চেয়ে কলম শক্তিশালী।

পাকিস্তানের অনেক ছোট ছোট ছেলেমেয়ে এই কার্টুনটিকে আকর্ষণীয় ও উদ্দীপনাময় বলে মনে করে। এর জনপ্রিয়তা দেখে পাকিস্তানের একজন বাবা কয়েক সপ্তাহ আগে দারুল উলুমে একটি প্রশ্ন পাঠিয়েছিলেন, তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে শরিয়াতে কার্টুন দেখার অনুমতি আছে কিনা।

দারুল ইফতা - মাদ্রাসার ফতোয়া প্রদান সম্পর্কিত বিভাগ - ঘোষণা করেছে যেহেতু কার্টুনগুলো “জীবন্ত ছবি” তাই সেগুলো দেখাটা ইসলামের নীতি বিরোধী।

দারুল উলুমের জ্যেষ্ঠ মুফতি মাওলানা আরিফ কাসমি বলেন, কার্টুন তৈরি করা এবং সেগুলো দিয়ে বাড়িতে খেলাধুলা করাও অবৈধ।

“টিভিতে কার্টুন দেখাও অনৈসলামিক। সেগুলো দেখার মাধ্যমে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়ে থাকে। সুতরাং, সেগুলো দেখা এড়িয়ে চলা উচিত,” তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন তিনি, এবং মাদ্রাসার অন্যান্য আলেমরাও তার দৃষ্টিভঙ্গিকে সমর্থন করেছেন।

দারুল উলুম দেওবন্দকে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী মাদ্রাসাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এছাড়াও এটিকে অত্যন্ত রক্ষণশীল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যে কোনো ধরনের ছবি তোলা অথবা অন্য কোনো দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে ছবি তৈরি করাকে আল্লাহর সৃষ্টির অনুকরণ হিসেবে বোঝানোর জন্য মাদ্রাসাটি ইসলামি শিক্ষার ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে, এবং তাদের মতে এই কারণে মুসলমানদের এগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

বিরোধিতা

কিন্তু কয়েকজন উল্লেখযোগ্য আলেমসহ মুসলমান সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ এই সর্বশেষ ফতোয়ার প্রবল বিরোধিতা করছেন।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড (এআইএমপিএলবি)-এর আহ্বায়ক মাওলানা ইয়াসুব আব্বাসী তার ভাষায় এই “দায়িত্বজ্ঞানহীন” ফতোয়া দেয়ার জন্য মাদ্রাসাটির ব্যাপক সমালোচনা করেছেন।

“ইসলাম সহিষ্ণুতার ধর্ম। কিন্তু দেওবন্দ মাদ্রাসা ইসলামের জন্য দুর্নাম বয়ে আনছে,” খবর দক্ষিণ এশিয়াকে বলেছেন আব্বাসী। “যে কোনো বিষয় ও সকল বিষয় সম্পর্কে ফতোয়া জারি করার মাধ্যমে দেওবন্দের মুফতিরা ইসলাম নিয়ে মশকরা করছে”৷

কার্টুন সম্পর্কিত এই অধ্যাদেশ প্রথম বিতর্ক সৃষ্টিকারী অধ্যাদেশ নয়। এর আগে, দারুল উলুম নারীদের অ্যালোকোহলযুক্ত সুগন্ধী ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, উল্কি পরা নিষিদ্ধ করা অথবা পশ্চিমা নারীদের মত করে হালফ্যাশনের চুলের স্টাইল নিষিদ্ধ করা সম্পর্কে ফতোয়া জারি করে অনেক মুসলমানের বিরক্তির কারণ হয়েছিল।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম উইমেন্স পার্সোনাল ল’ বোর্ড এর সভাপতি শাইস্তা আম্বার বলেন, “অর্থহীন” ফতোয়া জারি করার বদলে, দেওবন্দের আলেমদের উচিত সমাজে সমস্যা সৃষ্টিকারী অন্যান্য জরুরি বিষয়গুলো মোকাবেলা করা।

“আলেমদের বরং উচিত আরো বেশি শিশুকে আধুনিক শিক্ষার আলোতে নিয়ে আসার জন্য কৌশলের উপর মনোযোগ দেয়া এবং অন্যায়ভাবে তালাক দেয়া প্রতিরোধ করার জন্য কাজ করা,” খবরকে বলেছেন আম্বার। “তাদের উচিত এইসব অসার ফতোয়াগুলো জারি করা বন্ধ করা”৷

এআইএমপিএলবি-এর একজন সদস্য, লক্ষ্ণৌর শাহী ইমাম মাওলানা খালিদ রাশিদ ফিরাঙ্গি মাহালি বলেন, দারুল উলুমের যে সব মুফতি এই ফতোয়া জারি করেছেন তাদের অ্যানিমেটেড ফিল্মগুলো সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই।

“যখন দেওবন্দের মুফতিদের এ বিষয়ে কোনো জ্ঞান নেই, তাদের উচিত ছিল এই ফতোয়া জারি করার আগে প্রথমেই এ বিষয়ে জানার জন্য বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে নেয়া,” খবরকে বলেছেন মাওলানা মাহালি। “শিশুদের দেখা এই ধরনের বেশিরভাগ ফিল্মই অশ্লীলতামুক্ত এবং এই কারণে আমি মনে করি তারা সেগুলো দেখলে কোনো সমস্যা নেই”৷

তিনি বলেন, অনেক অ্যানিমেটেড ফিল্ম তৈরি করা হয়েছে শিশুদেরকে ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং তাদের নিজেদের দেশের ও বহির্বিশ্বের অন্যান্য তথ্যগুলো সম্পর্কে জ্ঞান দেয়ার জন্য।

“এছাড়াও এই সব ফিল্মগুলো শিশুদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। শিশুদের উপর এগুলোর অবশ্যই অনেক ইতিবাচক প্রভাব আছে। সুতরাং এই ফতোয়া শিশুদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য নয়”৷

মন্তব্য পোস্ট করুন (মন্তব্য দেয়া সম্পর্কিত নীতিমালা)* আবশ্যক ঘরগুলো নির্দেশ করছে

পাঠকের মন্তব্য
  • راشد نورانیMay 15, 2014 @ 09:05:45PM

    শিয়া ও লোভী ব্যক্তিদের বাজে কথা, সত্যিকারের আলেমদের ফতোয়া নয়, আর এটা বিতর্কিতও নয়।

  • klmSeptember 18, 2013 @ 05:09:22AM

    এটা কেবল শিশুদের জন্য একটা কার্টুন তৈরি করা। এটাকে আল্লাহকে অনুকরণ করার সাথে তুলনা করাটা হাস্যকর!

  • Dr Yasmin FathimaSeptember 14, 2013 @ 01:09:43AM

    অ্যানিমেটেড ফিল্মগুলো নিশ্চিতভাবেই শিশুদের যোগাযোগের দক্ষতা উন্নয়নে সাহায্য করে থাকে। যখন তারা লেখাপড়া করে না, বিরতির সময়, এই ফিল্মগুলো শিশুদেরকে পুনরায় ভালোভাবে সতেজ করে তুলতে পারে। কেউই আপনার ছেলেমেয়েদেরকে এই ধরনের ফিল্মগুলো দিনে ১০ ঘন্টা ধরে দেখতে বলছে না। দিনে হয়তো ১ বা ২ ঘন্টা দেখাটাই যথেষ্ট। এই ফতোয়া হাস্যকর।

ভোট

ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড সিরিয়া (আইএসআইএস) মুসলমানদের প্রতিনিধিত্ব করে না।

ফলাফল দেখুন

ছবির মেলা

২৪ বছর আগে যখন তার বাবা মারা গিয়েছিল, তখন কলকাতা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের রামচন্দ্রপুর গ্রামের একজন মুসলমান বাসিন্দা বাপ্পা আলী মোল্লা (ডান থেকে দ্বিতীয়) স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলেন৷ তার মা ও দুই বোনের খরচ চালানোর জন্য ১৪ বছর বয়সে তিনি একটি চায়ের দোকানে কাজ করা শুরু করেছিলেন৷ এখন, তাকে ও তার নিরক্ষর স্ত্রী রুবাইয়া বেগমকে (বাঁয়ে) কোনো মতে খেয়ে পরে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে৷ কিন্তু এখন তারা প্রতিজ্ঞা করেছেন যে তাদের ছেলে শহিদ আলী মোল্লা, ৫, ও তার বোন, ফিরোজা খাতুনকে, ৯ (ছবিতে দেখানো হয়নি), কখনোই স্কুল ছাড়তে দেবেন না৷

ভারতীয় মুসলমানরা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য সংগ্রাম করছে

খরচ সত্ত্বেও, দারিদ্র্য থেকে দূরে থাকার জন্য মা-বাবারা তাদের ছেলেমেয়েদেরকে স্কুলে রাখতে চান৷