কাঠমাণ্ডুর জোরপতি’র সমতা শিক্ষা নিকেতনের ছাত্ররা এসেম্বলিতে মিলিত হয়েছে। ২০০১ সালে স্থাপিত এই স্কুলটিই হচ্ছে নেপালের প্রথম “ব্যাম্বু স্কুল”। বাঁশ দিয়ে তৈরি বলে স্কুলগুলোর এই নামকরণ হয়েছে। নেপালের গরীব শিশু কিশোরদেরকে এই স্কুলগুলো খুবই উচু মানের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা দিয়ে থাকে। আর এর জন্য ছাত্রছাত্রীদেরকে ফি হিসাবে দিতে হয় খুবই কম অর্থ, মাসে ১০০ নেপালী রুপি (১.১২ ডলার) এর চেয়েও কম। বর্তমানে নেপালের ১৪টি জেলায় পৌছে গেছে এই স্কুল, শিক্ষা দিচ্ছে ৩০ হাজার ছাত্রছাত্রীকে। [ছবি: সুরাথ গিরি/খবর]
উত্তম সানজেল (বায়ে) ৩৮, ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে স্কুল সমাপনী পরীক্ষার ফল জানাচ্ছেন। কাঠমাণ্ডুর অধিবাসী সানজেল একসময় বলিউডের অভিনেতা হওয়ার কথা ভাবতেন। দেশের সেই সংঘাতময় সময়ে তিনিই প্রথম ব্যাম্বু স্কুল স্থাপন করেন।
স্কুল প্রাঙ্গনে ছাত্রীরা তাদের স্কুলের প্রার্থণা করছে। এই ব্যাম্বু স্কুলে অপ্রত্যাশিত একটা সুফল পাওয়া যাচ্ছে, আর সেটা হচ্ছে এখানে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে মেয়ে। এর ফলে নেপালের শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্যটা যেরকম প্রকট আকার ধারণ করেছিল, তা অনেকটাই কমে আসছে। এতদিন পিতামাতারা তাদের পুত্র সন্তানকে ব্যয়বহুল প্রাইভেট স্কুলে পড়ালেও মেয়েদেরকে পাঠাতো সস্তা সরকারী স্কুলে। ব্যাম্বু স্কুলগুলো মেয়েদের জন্য একটা চমৎকার বিকল্প হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে।
দশম শ্রেনীর একজন ছাত্রী তার গণিতের এসাইনমেন্ট শেষ করছে। স্বল্প খরচ হওয়া সত্ত্বেও সমতা শিক্ষা নিকতনের ছাত্রছাত্রীদের সাফল্য খুবই সন্তোষজনক। ২০১১ সালে স্কুল সমাপনী সার্টিফিকেট পরীক্ষায় এখান থেকে ১২০ জন অংশ নিয়েছে, তার মধ্যে থেকে ৯২ জনই ডিস্টিংশন সহ পাস করেছে।
সানজেলএর পরিকল্পনা হচ্ছে দেশের ৭৫টি জেলাতেই ব্যাম্বু স্কুলকে পৌছে দেয়া। বর্তমানে বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রীই আসছে গরিব পরিবার থেকে। এছাড়া বিদেশে কাজ করে-এমন পিতামাতার সন্তানরাও আসছে এই স্কুলে।
একটি ভবনের সামনে সাইনবোর্ডে এর উদ্যোক্তাকে সম্মান দেখানো হয়েছে। নেপালের প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব মদন কৃষ্ণ শ্রেষ্ঠা এবং হরি বনশা আচার্য এই ব্যাম্বু স্কুল তৈরিতে নানাভাবে সাহায্য করেছেন। তাদের সেই অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাদের নামে বিভিন্ন কক্ষের নামকরণ করা হয়েছে।
ছাত্রছাত্রীরা সকালের এসেম্বলিতে অংশ নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা সানজেল বলেন, নেপালের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মের উপর। একবার দেশটিতে শান্তি এবং স্থিরতা এলে এই তরুণ প্রজন্মই দেশকে পূণর্গঠন করতে পারবে।
স্কুল খোলার দিন বিরতির সময় দুইজন বালিকা ছবি তোলার জন্য পোজ দিয়েছে।
নিজের বইগুলোকে নিয়ে একটি বালক ক্লাসরুম থেকে বরে হযে আসছে।
স্কুল প্রার্থণায় ছাত্রছাত্রীরা অংশ নিচ্ছে। জোরপতির এই স্কুলে বর্তমানে সাড়ে চার হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে, আর এখানে শিক্ষক রয়েছে একশ’।
2013-06-12
2013-02-26
2012-11-01
চাংপা জনগোষ্ঠীর যাযাবর জীবন তাদেরকে দুই পথের সংযোগস্থলে এনে ফেলেছে
2012-08-07
যুদ্ধে শেষে শ্রীলংকাতে কৃষিকাজ এবং পর্যটন ব্যাপক উন্নতি লাভ করেছে
2012-04-17
2012-02-07

পাঠকের মন্তব্য
মন্তব্য পোস্ট করুন
মি. উত্তম, আপনাকে ধন্যবা।